এইমাত্র পাওয়া

এবার সোনালী ব্যাংকে বিলীন হচ্ছে বিডিবিএল

নিউজ ডেস্ক।।

এবার সোনালী ব্যাংকে বিলীন হচ্ছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল)। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক দুটির মধ্যে একীভূতকরণ সংক্রান্ত সমঝোতা সই হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের এমডি আফজাল করিম ও বিডিবিএলের এমডি হাবিবুর রহমান গাজী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, উপদেষ্টা আবু ফরাহ মো. নাছের, ডেপুটি গভর্নর নূরুর নাহার, নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী ও বিডিবিএলের চেয়ারম্যান শামীমা নার্গিস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এর মাধ্যমে ব্যাংক দুটির মধ্যে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শুরু হলো। এখন ব্যাংক দুটির সম্পদ ও দায় পর্যালোচনা করা হবে। এরপরই একীভূত হবে ব্যাংক দুটি। এদিকে চুক্তির কারণে আতঙ্কে ভুগছেন বিডিবিএলের কর্মীরা। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী একীভূত হওয়ার তিন বছর পর দুর্বল ব্যাংকের কর্মীদের কর্মদক্ষতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে অধিগ্রহণকারী ব্যাংক। তাই একীভূত না হতে বিডিবিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারের কাছে খোলা চিঠিও দিয়েছিল। এর পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারণে একীভূত হলো ব্যাংকটি।

বিডিবিএলের চেয়ারম্যান শামীমা নার্গ বলেন, বিডিবিএলের চার সূচকের মধ্যে শুধু খেলাপি ঋণে দুর্বলতা রয়েছে, যা আগে ছিল ৪১ শতাংশ। এক বছরে তা কমিয়ে ৩৪ শতাংশে নামিয়ে আনা গেছে। সময় পেলে এই সমস্যাও কাটিয়ে ওঠা যেত। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে একীভূত হতে হচ্ছে। সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী বলেন, অনেক চিন্তাভাবনা করেই মার্জারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই ব্যাংকের দুই ধরনের অভিজ্ঞতা আছে। সেগুলো কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা একীভূত হয়ে গঠিত হয়েছিল বিডিবিএল। ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি এটি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তবে খেলাপি ঋণের চাপে ব্যাংকটি দাঁড়াতে পারেনি। ২০১৮ সালে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮৯ কোটি টাকা, মোট ঋণের ৪৬ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮২ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৪২ শতাংশ। এর আগে গত ১৮ মার্চ ব্যাংক একীভূত হতে সমঝোতা স্মারক সই করে পদ্মা ও এক্সিম ব্যাংক। আর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হবে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। এ ছাড়া বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে দ্য সিটি ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংকে ইউসিবি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এখনই একীভূত হতে চাচ্ছে না বেসিক ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.