নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কর্মসংস্থানের বিষয়টি মাথায় রেখে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। গতকাল এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি আসনে নানা রকম ডিপ্লোমা কোর্সের অনুমোদন রয়েছে। আমরা অনুরোধ করতে চাই, গতানুগতিক উচ্চশিক্ষার ধারায় যদি শিক্ষার্থীরা না যায়, তবে এসব প্রতিষ্ঠানে সুযোগ আছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরও দ্রুত কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারি চাকরির বয়সসীমা ৩৫ বছর করার আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিছু চাকরিপ্রার্থী এ বিষয়ে অনুরোধ করেছিলেন। কিছু কিছু বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনাকালে মনে হয়েছিল, এ বিষয়ে সুপারিশ করা যেতে পারে। সেই হিসেবে আমি একটি সুপারিশপত্র দিয়েছি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, সেই সুপারিশপত্রটিকে পুঁজি করে অনেকে জল ঘোলা করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জনপ্রশাসনমন্ত্রী জাতীয় সংসদে পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন- এটা বাড়ানোর বিষয়ে এ মুহূর্তে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। এখানেই বিষয়টির সমাপ্তি ঘটেছে। আমার সুপারিশপত্রের কার্যকারিতা সেখানে আর নেই।
আগামীতে শনিবার স্কুল খোলা থাকবে কি না- এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা একটি নির্দিষ্ট সময় পাবে বাড়ির কাজ করার জন্য, সেটা বিবেচনায় নিয়ে শনিবারও স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছিল। যেহেতু আমরা ৯টি কর্মদিবস পাইনি, তাই আপাতত একটা ব্যবস্থা করে সেই কর্মসূচি পাওয়ার চেষ্টা করছি। শিক্ষকদেরও বিশ্রামের প্রয়োজন আছে, শিক্ষার্থীদেরও বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। অতিমাত্রায় চাপ দিয়ে সবদিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করে অনেক বেশি শিখন ফল অর্জন করব, বিষয়টা কিন্তু তা নয়। আমরা আশা করছি, আগামী ঈদুল আজহার পর এটা (শনিবার ক্লাস) আমাদের হয়তো কন্টিনিউ করতে হবে না। অবস্থা বিবেচনায় সেটা আমরা করব।
এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি অনুরোধপত্র পাঠাচ্ছি। তাদের পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত যে ধাপটি আছে, সেটি যেন তারা উত্তরণ করে অষ্টম শ্রেণির পাঠদান দেওয়ার অবস্থানে আসেন সে পরিকল্পনা প্রণয়ন করার জন্য। পিইডিপি-৫ যে প্রকল্প আসছে, সেখানে যেতে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
কওমি মাদ্রাসাগুলোকে রেগুলেশনের আওতায় আনতে সরকারের পরিকল্পনা আছে কি না- জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কওমি মাদ্রাসার ৬টি বোর্ড নিয়ে যে বোর্ড আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে, তাদের সঙ্গে আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করেছি। সেখানে কী কী পড়ানো হচ্ছে, সেটি জানার চেষ্টা করছি এবং একসঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছি।
শিবা/জামান/১৩/০৫/২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
