নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ভিসি, ট্রেজারার ও প্রক্টরের নেতৃত্বে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষকদের ওপর হামলাকারী শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার ও সনদ বাতিল চায় শিক্ষক সমিতি।
শনিবার (৪ মে) রাতে শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো: আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে শিক্ষকদের ওপর হামলায় অংশ নেয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করে সুষ্ঠু বিচার, সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেয়া সাবেক শিক্ষার্থীদের (ছাত্রলীগের সাবেক নেতা) সনদ বাতিল ও হামলায় অংশ নেয়া বর্তমান শিক্ষার্থীদের (ছাত্রলীগের নেতা) বহিষ্কারও দাবি করেছে সংগঠনটি।
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহ খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতি। একইসাথে ভিসি ও কোষাধ্যক্ষকে প্রত্যাহার করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার কথা বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে আরো জানা যায়, শিক্ষকদের দাবিদাওয়া নিয়ে শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল সিন্ডিকেটের ৯৩তম জরুরি সভায় ১ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া ভিসি সিন্ডিকেটের সভায় হলে অস্ত্র ও অর্থের চালান হচ্ছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধ করে দেন। কোনো ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছাড়া এই ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছে শিক্ষক সমিতি। একইসাথে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে হামলাকারী, হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার জেলখাটা দাগি আসামি ও সন্ত্রাসীদের হল ও ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ করে দেয়া হবে বলে শিক্ষক সমিতি আশঙ্কা করছে।
এছাড়া সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধ এবং মিথ্যা তথ্য প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে মনে করে শিক্ষক সমিতি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের পর ভিসির কক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় ও কিছু দাবি দাওয়ার বিষয়ে কথা বলতে গেলে দুজন কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের সাবেক সদস্যরা শিক্ষকদের ওপর হামলা করেন। এরই জেরে তিন দফা ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি সাত দফা দাবি জানিয়ে আসছিল শিক্ষক সমিতি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ভিসি, ট্রেজারার ও প্রক্টরের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষকরা।
সবশেষ, গত (২৮ এপ্রিল) শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচিতে ভিসি, ট্রেজারার ও প্রক্টরসহ ভিসিপন্থী সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতারা শিক্ষকদের কিল, ঘুষি ও ধাক্কা দিয়ে প্রশাসনিক ভবনের অবস্থান দখলে নেন। এরপর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন।
শিক্ষাবার্তা/জামান/০৫/০৫/২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
