এইমাত্র পাওয়া

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও নিয়োগের নির্বাহী আদেশের প্রত্যাশায়

আমির আসহাব।।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সন্তানতুল্য এনটিআরসিএ’র নিবন্ধিত এক ঝাঁক অনার্স-মাস্টার্স করা তরুণ-তরুণীরা নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে ‘নিবন্ধন সনদ’ অর্জন করেছে। যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে গঠিত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) যোগ্যতার সনদ প্রদান করা সত্তে¡ও শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা ছিল ম্যানেজিং কমিটির হাতে। ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে, ২০১৫ সালে এনটিআরসিএ-কে নিয়োগ সুপারিশ অনুমতি দেয় মন্ত্রণালয়। স্বাভাবিকভাবে পরের দিন থেকে এনটিআরসিএ নিয়োগ দিবে।

হাইকোর্টের নির্দেশে উত্তীর্ণদের সম্মিলিত তালিকা প্রকাশ করা হয়। এককবার একেকটি পরীক্ষায় প্রর্থীরা এককে নাম্বার পান। পদ্ধতিগত পরিবর্তন হলে মূল্যায়নের সবকিছুই ওলটপালট হয়ে যায়। তাই সম্মিলিত তালিকা করায় কোনো কোনো ব্যাচ লাভবান হয়, আবার কোনো কোনো ব্যাচের একেবারে বিনা কারণে সর্বনাশ হয়ে যায়। নম্বর ভিত্তিক তালিকা করার কোনো পূর্ব ঘোষণা ছিল না, ফলে পূর্বে যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১-১২তমদের একই তালিতায় অর্ন্তভূক্ত করায় তাদের নব্বইভাগেরই অবস্থান থাকে তালিকার পিছনের দিকে। স্বাভাবিকভাবেই সকলের জন্য নিয়োগ সুপারিশের কোনো সুন্দর বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি প্রয়োগের মনমানসিকতা না থাকলে ১-১২ তমরা নিয়োগ বি ত থেকে যাবে। হয়েছেও ঠিক তাই।

গণবিজ্ঞপ্তি নামক প্রহসনে বারবার পদ ফাঁকা থেকে যাচ্ছে আর তৈরি হচ্ছেন কৃত্রিম শিক্ষক সংকট। ১-১২তমদের নিয়োগ সুপারিশ থেকে দূরে রেখে শুধু ১৬তম ও ১৭তম ব্যাচে উত্তীর্ণদের নিয়ে নতুন করে ৫ম গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এনটিআরসিএ। ১৬তম ব্যাচে উত্তীর্ণ সাড়ে ১৮ হাজারের বেশির ভাগ ইতোমধ্যে চতুর্থ সারকেলে সুপারিশ প্রাপ্ত, ১৭তম ২৩ হাজার নতুন উত্তীর্ণ।

তাহলে ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে নিবন্ধিত নিয়োগ বি ত চাকরি প্রত্যাশী সবো”র্চ হবে ত্রিশ হাজার। অথচ শুন্য পদ লখাধিক । এভাবেই প্রতি গণবিজ্ঞপ্তিতে বিশাল নিয়োগের সংবাদ প্রচার হয়। এনটিআরিসিএ’র অনিয়ম সামনে আসে, কেউ কেউ আইনি ব্যবস্থা নেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্টে হয়ে যায়, সুধী সমাজ পরামর্শ দেন-ভুক্তভোগীর পদটি সংরক্ষিত রেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হোক। এভাবেই চলছে।

১২.০৬.২০১৮ খ্রিষ্ট্রাব্দ তারিখের পূর্বে যারা (১-১২তম) নিবন্ধন সনদ লাভ করেছে তাদের ক্ষেত্রে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের ৩৯০০/২০১৯ রায় অনুযায়ী বয়সসীমা শিথিলযোগ্য। তৃতীয় গণবিপ্ততে বিষয়টি উল্লেখ করে এনটিআরসিএ আবেদন গ্রহণ করে। এনটিআরসিএ’র করা রিভিউ খারিজ হয়েছে। সুতরাং আইনত ১-১২তমদের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকার কথা না। এছাড়াও এমপিও নীতিমালা প্রবর্তন পরবর্তিদের জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলে তা পরবর্তিদের জন্য প্রযোজ্য হওয়াটাই স্বাভাবিক।

এনটিআরসিএ’র তথ্যমতে চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে স্কুল কলেজ মিলে প্রকৃত চাকরি প্রত্যাশীর সংখ্যা হিসেবে আবেদন পড়ে মাত্র ৮১ হাজার। শূন্য (এমপিও ভূক্ত অপেক্ষামান পদ) সারা বাংলাদেশে লক্ষাধিক। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল শিক্ষক সংকট দূরীকরণে- বছরে চারবার শিক্ষক নিযোগের কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। এনটিআরসিএ’র হাতে পর্যাপ্ত শিক্ষকও আছে, তবে কেন সনদ বাতিলের মত হটকারি সিদ্ধান্ত এনটিআরসিএ’র। আইনি বাধ্যবাধকতা বা সংঘর্ষিক প্রার্থীদের ক্ষেতে আইনিভাবেই সমাধান করতে হবে।

তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি ফাঁকা ৪০ হাজার পদ (ইনডেক্সধারীদের সুপারিশকৃত ২২ হাজারসহ) অথবা চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি ফাঁকা থাকা সেই একই ৪০ হাজার পদ এখনো ফাঁকা। ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতেও কমপক্ষে ৭০ হাজার পদ শূন্য থাকবে। ১-১২তম ২০ থেকে ২২ হাজার নিয়োগ বি তদের ভাগ্য ফেরানো এখন একটু সুনজরের অপেক্ষামাত্র। পদশূন্য রেখে ১-১২তমদের নিয়োগ বি ত করে, কৃত্রিম শিক্ষক সংকট তৈরি করে, বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় গুনগত ওমানসম্মত শিক্ষায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, কারিকুলাম বাস্ববায়ন চ্যালেঞ্জ এর মুখে ফেলে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে লাভটা হচ্ছে কার?

২৩ বছর বাঙ্গালীদেরকে, পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর গোলাম বানিয়ে রেখেছিল। আর আজকে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও, আমাদের আইনগত অধিকার ফিরে পেতে, এনটিআরসিএ অফিসের সামনে ভিক্ষুকের ন্যায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে হচ্ছে, এটা বাঙালি ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে সত্যিই লজ্জাজনক ও বটে। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে এনটিআরসিএ অফিসের সকল কর্মকান্ডে যে প্রতিবন্ধকতা নি:সন্দেহে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সেটি অশনিসংকেত ।

তদুপরি পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি মহোদয় কে, যিনি ৫ম বারের ন্যায় প্রধানমন্ত্রী’র আসন অলঙ্কৃত করে শুধু সারা বাংলাদেশের উন্নয়ন নয়, বরং বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেশকে আবারও অনন্য উ”চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।এমনকি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে সারা পৃথিবীতে মানবতার উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে ভূয়সী প্রশংসিত হয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি রোহিঙ্গাদের যদি আশ্রয় দিতে পারেন, তাহলে আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের এই ছোট্ট বিষয়টির সমাধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার পক্ষে একেবারেই নগন্য।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/জামান/০২/০৪/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.