নিজস্ব প্রতিবেদক।।
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী বেতন ভাতা ও বোনাস বা উৎসব ভাতা নির্ধারিত হয়। কেউ এই আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলে তিনি শ্রম আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন।
বর্তমানে বোনাস ব্যবস্থায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। কারো বোনাস চার আনা, কারো আটআনা আবার কারো ১৬ আনা। অথচ উৎসবের রং সবার সমান। উৎসব ভাতার এ অস্থিরতা ও বৈষম্য যেমনি চরম অসন্তোষ তৈরি করতে পারে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মাঝে; তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাবও পড়তে পারে শিক্ষক, শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষার গুণগত মানে।
দেশে এখন এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৩১০ হাজারেরও বেশি। অর্থাৎ দেশের মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৭ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর পদ রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষক আছেন প্রায় সাড়ে চার লাখ।
কর্মচারী প্রায় দেড় লাখ। ছয় লাখ পদের মধ্যে সারা দেশে প্রায় পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মূল বেতনের পুরো অংশ, সরকারি বিধি অনুযায়ী মূল বেতনের ২০ শতাংশ, বৈশাখী ভাতা এবং বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া বাবদ মাসে এক হাজার টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা বাবদ ৫০০ টাকা সরকার দিলেও দুই ঈদে শিক্ষকদের ২৫ শতাংশ এবং কর্মচারীদের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা দেয়া হয়। এদিকে শিক্ষকদের শতভাগ ঈদ বোনাস বিষয়ে মন্ত্রণালয় চায় প্রস্তাব, মাউশি চায় নির্দেশনা- এমন লুকোচুরিও দৃশ্যমান।
কিন্তু সমস্যা হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে। সরকারি চাকরিজীবীদের বোনাস মূল বেতনের ১৬ আনা হলে বেসরকারি শিক্ষকদের বেলায় চার আনা ও কর্মচারীদের বেলায় আট আনা পরিমাণ। একই পাড়ার কিংবা একই বাড়ির কিংবা একই পরিবারের দু’জন সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকের পোশাক, তাদের সন্তান, পরিবার পরিজনের উৎসবের দৃশ্য কি ভিন্ন? সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য উৎসবের সংজ্ঞা আলাদা কিনা তাও আমাদের বোধগম্য নয়।
অথচ তারা দু’জন শিক্ষকই জাতি গড়ার কারিগর হিসেবে সমান হারে অবদান রাখছেন। বলুন তো উৎসব ভাতা ভিন্ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষকের ছেলে-মেয়েরা ঈদ করবে কাদের সাথে? যেখানে সরকারি অফিসের একজন পিয়ন, বেসরকারি শিক্ষকের চেয়ে অন্তত চারগুণ বেশি বোনাস পান, সে ক্ষেত্রে জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষকসমাজের মান কোথায় থাকে?
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান করলে কি দেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে? যদি কেউ এটিকে নিছক অপচয় এবং অসম্ভব মনে করেন তাদের জন্য বলি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ কেলেঙ্কারি, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, ডেসটিনি কেলেঙ্কারি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, রেল কেলেঙ্কারি, বিমানের বার্ষিক বিশ হাজার কোটি টাকা লোকসান ইত্যাদি সব কেলেঙ্কারিতে কি দেশের হাজার কোটি টাকা অপচয় হয়নি?( একজন শিক্ষক নেতার যে চাওয়া গোটা শিক্ষক সমাজের একই।)

তবু সরকারের সব কাজ চলমান রয়েছে। শুধু এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শতভাগ উৎসব ভাতার সিদ্ধান্ত নিতে গেলে সরকার, মাউশি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যত অজুহাতের ছড়াছড়ি। তাই, ঈদ এলে শিক্ষকদের মলিনতা নিরসনে, প্রাণে ভয়, বিবেকে অপমান, গভীর রাতে চোখে ক্রন্দন, অসহায়ত্বের হাতছানির অবসানে স্মার্ট দেশ গঠনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা শতভাগকরণের দাবি কি খুব বেশি চাওয়া? সঙ্গত কারণে বলতে চাই, উৎসব ভাতা শতভাগ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সম্মানের সাথে বাঁচতে দিন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
