নিজস্ব প্রতিবেদক।।
চলতি বছরের মধ্যে ৭ থেকে ১০টি দুর্বল ব্যাংক সবল বা ভালো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে দুর্বল ব্যাংকগুলো নিজেদের ইচ্ছায় একীভূত না হলে আগামী বছর থেকে তাদের চাপ দিয়ে একীভূত করা হবে। দুর্বল ব্যাংকের খারাপ সম্পদ (ঋণ) কিনে নেবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (এএমসি)। ফলে একীভূত হওয়ার কারণে ভালো ব্যাংকগুলোর খারাপ হয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে দুর্বল ব্যাংকগুলোর পরিচালকেরা ভালো ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।
ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় এমন মতামত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সভায় উপস্থিত একাধিক ব্যাংক চেয়ারম্যান ও ব্যাংক কর্মকর্তা বিষয়টি প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।
দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ভালো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হবে—কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমন পরিকল্পনা জানানোর পর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে যায় বিএবির প্রতিনিধিদলটি।
এ সময় তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংক একীভূত করার প্রেক্ষাপট, প্রক্রিয়া ও সময়সীমা জানানো হয়। গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই আলোচনায় নেতৃত্ব দেন। ব্যাংক উদ্যোক্তাদের পক্ষে ছিলেন বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান।
গত ৩১ জানুয়ারি সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংক একীভূত করার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন ব্যাংকার্স সভায় গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেছিলেন, দেশের মোট ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ৪০টির মতো ব্যাংক ভালো অবস্থায় আছে। বাকিগুলোর মধ্যে ৮ থেকে ১০টি ব্যাংক একীভূত হতে পারে। একীভূত হওয়ার লক্ষ্যে ভালো ও দুর্বল ব্যাংকের এমডিদেরকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।
এর ধারাবাহিকতায় ব্যাংকের চেয়ারম্যানরা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাংক চেয়ারম্যানরা জানতে চান, কিসের ভিত্তিতে ব্যাংক একীভূত করা হবে, খারাপ সম্পদের দায় কে নেবে এবং একীভূত হলে ভালো ব্যাংকগুলো খারাপ অবস্থায় পড়বে কি না।
সভার সূত্র জানায়, আলোচনার সময় ব্যাংক খাতের সংস্কারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি করা পথনকশার কথা তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। বৈঠকে বলা হয়, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী চলতি বছরের আর্থিক তথ্যের ভিত্তিতে আগামী বছরের মার্চ মাস থেকে দুর্বল ব্যাংকের ব্যবসা সীমিত করে দেওয়া হবে। এরপরই ব্যাংকের একীভূত কিংবা অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। দুর্বল ব্যাংক চিহ্নিত করা হবে মূলধনঘাটতি, উচ্চ খেলাপি ঋণ, তারল্য এবং প্রতিষ্ঠানে সুশাসনের কতটা ঘাটতি রয়েছে তার ভিত্তিতে।
বৈঠকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়ে দিয়েছে, চলতি বছরের মধ্যে নিজের ইচ্ছায় একীভূত না হলে আগামী বছর থেকে চাপ দিয়ে দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে দেওয়া হবে। দুর্বল ব্যাংক সবল করতেই একীভূত করার এই উদ্যোগ। তবে একীভূত হওয়ার কারণে কোনো ব্যাংক খারাপ পরিস্থিতিতে পড়বে না। কোন প্রক্রিয়ায় একীভূত হওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হবে, তা নিয়ে শিগগির নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/জামান/০৫/০৩/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
