এইমাত্র পাওয়া

মেডিকেল সেক্টরে মাফিয়ারা কাজ করে: হাইকোর্ট

ঢাকাঃ সারা দুনিয়ায় মেডিকেল সেক্টরে মাফিয়ারা কাজ করে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। খতনা করতে গিয়ে শিশু আয়ান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া রিটের শুনানিতে আজ রোববার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন।

আদালত বলেন, ‘সারা দুনিয়ায়ই হেলথ নিয়ে সমস্যা আছে। এটা রাতারাতি ঠিক হয়ে যাবে না। সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আদেশ দিলাম, পত্রিকায় নাম আসল—এটা আমরা চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের জন্য।’
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ বি এম শাহজাহান আকন্দ মাসুম। ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কুমার দেবুল দে। আর আজ এই মামলায় পক্ষভুক্ত হন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সারা দেশে ১ হাজার ২৭টি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্ল্যাড ব্যাংকের লাইসেন্স নেই। আর লাইসেন্সধারী হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্ল্যাড ব্যাংকের সংখ্যা ১৫ হাজার ২৩৩।

হাইকোর্ট বলেন, ‘যেগুলোর লাইসেন্স নেই, সেগুলোর কী হবে?’ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ আদালত বলেন, ‘কোনো পদক্ষেপ তো দেখছি না।’

একপর্যায়ে আদালত জানতে চান ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে কেউ অ্যাপেয়ার করেছে কি না? এ সময় আইনজীবী কুমার দেবুল দে দাঁড়ান। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো কাগজ নেই।’ আদালত বলেন, ‘এটার ফাউন্ডেশন আছে?’ কুমার দেবুল দে বলেন, ‘ফাউন্ডেশনের আন্ডারেই মেডিকেল কলেজ চলে।’

আদালত বলেন, ‘তাহলো তো আপনারই সব।’ পরে এই আইনজীবীকে মামলার প্রয়োজনীয় কাগজ সরবরাহ করতে বলেন আদালত।

শুনানির একপর্যায়ে এই মামলায় পক্ষভুক্ত হতে আবেদন করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি আদালতে বলেন, ‘এটাকে সিঙ্গেল করা ঠিক হবে না সারা দেশে রোগীদের সঙ্গে ডাক্তার এবং ডাক্তারদের সঙ্গে রোগীদের নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন তিনি।

শিশির মনির বলেন, মেডিকেল নেগলিজেন্সির ঘটনায় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পৃথক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন। অন্যান্য দেশে এ রকম আছে। তবে তার পক্ষভুক্তির বিষয়ে আপত্তি তোলেন রাষ্ট্রপক্ষ ও রিটকারী আইনজীবী। এ সময় আদালত বলেন, ‘আমরা তাকে ইন্টারভেনর (জনস্বার্থে তৃতীয় পক্ষ) হিসেবে নিচ্ছি। তার আবেদন অ্যালাউ। আমরা তো ১৮ কোটি মানুষের জন্য।’ পরে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিন ধার্য করেছেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.