কুষ্টিয়াঃ জেলায় বহুল আলোচিত মিলন হত্যার অভিযোগে পুলিশে রিমান্ডেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সজীব শেখ এবং তার সহযোগী ইফতি খান। তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) তাদের আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
রিমান্ডে নির্দোষ দাবি এবং হত্যা দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করায় আদালত শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ কুষ্টিয়ায় যুবকের ৯ টুকরা লাশ: হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা কে এই সজীব?
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক সাজু মোহন সাহা। তিনি বলেন, ‘সজিব রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে পুলিশের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।’
এদিকে নিহত মিলন হোসেনের স্ত্রী মিমি খাতুন সবকিছু প্রমাণ থাকার পরেও রিমান্ডে দায় স্বীকার করাতে না পারা পুলিশের ব্যর্থতা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এটাকে বলবো—জামাই খাতিরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ। এটি লোক দেখানো রিমান্ড ছাড়া আর কিছু না।’
গত ২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত পদ্মার চরে অভিযান চালিয়ে মিলন হোসেনের দেহের ৯ টুকরা উদ্ধার করে পুলিশ। মিলন হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বাহিরমাদি গ্রামের মাওলা বক্স সরদারের ছেলে। তিনি স্ত্রী মিমি খাতুনকে নিয়ে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং ই ব্লকে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা করলেও ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। গত ৬ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় গ্রেপ্তার ছয় যুবকের মধ্যে চারজন দায় স্বীকার করে আদলতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এরপর তাদেরকে মামলার এজহারভুক্ত আসামি দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন হত্যাকাণ্ডে প্রধান সন্দেহভাজন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এস কে সজীব এবং তার সহযোগী ইফতি খান। দায় স্বীকার না করায় পুলিশের রিমান্ড আবেদনে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত রবিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর মিলন হত্যা মামলার এজাহারে অজ্ঞাতনামা আসামি থাকলেও পুলিশের তৎপরতায় ঘটনার সাথে জড়িত ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনই আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়াতেই এরা এখন এজাহার ভুক্ত হয়ে যাবে। সজিব ও ইফতি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যই গ্রেপ্তার সবাই এজাহারভুক্ত হবে।’
তবে লাশ উদ্ধারের পুলিশ জানিয়েছিল, পুরো হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এস কে সজীব। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা সবাই একে অপরের পরিচিত। নিখোঁজের দিন তাকে ফোনে ডেকে হাউজিং এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করার পর হত্যা করা হয়। লাশ গুম করার সুবিধার্থে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেহটি টুকরা টুকরা করা হয়। চারটি মোটরসাইকেলে সাতজন সাতটি পলিথিন ব্যাগের ভেতর লাশের ৯টি টুকরা নিয়ে বের হন। নদীর পাড় থেকে হেঁটে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে পদ্মার মধ্যে বালুর ভেতর চারটি স্থানে লাশের টুকরাগুলো পুঁতে রাখেন তারা।
মিলনের স্ত্রী মিমি খাতুন বলেন, ‘এ মামলার শুরুতে অজ্ঞাতনামা আসামি করে এজাহার দেওয়া ছিলো একটা বড় ভুল। সজিব ও সজলের দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে পুলিশ খন্ড দেহ উদ্ধার করে। এর মধ্যদিয়ে ওরাই প্রমাণ দিয়েছে যে ওরা জড়িত। অথচ আদালতে গিয়ে আসামি সজিব কোনো স্বীকারোক্তি দিলো না, তাহলে কি লোক দেখানোর জন্য পুলিশের এই রিমান্ড চাওয়া।’
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৩/০২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
