বগুড়াঃ জেলার সোনাতলায় প্রতিবেশীকে ছেলে সাজিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে কোটায় পুলিশে চাকরি দেওয়ার অপরাধে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে সরকারের সাড়ে ৩২ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে অনুসন্ধান শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম সম্প্রতি এ মামলা করেন।
মঙ্গলবার বিকালে উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
অভিযুক্তরা হলেন- বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার খিতাবেরপাড়া গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম (৭২) ও একই উপজেলার নয়পাড়া গ্রামের জাফর আলী মণ্ডলের ছেলে গাইবান্ধা পুলিশ লাইনসে কর্মরত নায়েক আহসান হাবিব (৩৫)।
মামলা সূত্র জানায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের দুই মেয়ে রাশেদা খাতুন ও মোর্শেদা খাতুন ছাড়া আর কোনো সন্তান নেই। তিনি ২০১০ সালে জালিয়াতির মাধ্যমে সোনাতলার নয়াপাড়া গ্রামের জাফর আলী মণ্ডলের ছেলে আহসান হাবিবকে নিজের সন্তান পরিচয় দেন। তিনি নিজের মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরিতে সহায়তা করেন। চাকরি পাওয়ার পর আহসান হাবিব বেতন-ভাতা ও সরকারি অন্যান্য সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন।
এদিকে জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পেলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাহাঙ্গীর হোসেন গত ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এক স্মারকে প্রধান কার্যালয়ে দুদক চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে বগুড়ার সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম তদন্ত করে সত্যতা পান।
সম্প্রতি জাহিদুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম ও তার কথিত সন্তান পুলিশের নায়েক আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ৩২ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৭/০২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
