নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অনুমোদন ছাড়া প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়াতে চাইলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। এমনই বিধান রেখে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকরি বিধিমালার খসড়া তৈরি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।
আগামী ৩০ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠেয় কর্মশালায় খসড়াটি চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মকর্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য চাকরি বিধিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একেবারেই প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি কর্মশালা হবে। কর্মশালা শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, সর্বশেষ জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারি কর্মচারীদের মতো একটি বিধিমালা তৈরির প্রস্তাব দেন ঝিনাইদহের তৎকালীন ডিসি মনিরা বেগম। এরপর বিধিমালা তৈরির কাজ শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকরি বিধিমালায় ১০টি ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। খসড়ার একটি বিধিতে অনুমোদন ছাড়া শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশনি নিষিদ্ধের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া আরেকটি বিধিতে শিক্ষকদের রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ, আন্দোলনের নামে চাঁদা সংগ্রহ এবং এসব আন্দোলন সমর্থন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জানা গেছে, খসড়া বিধিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা শিরোনামে ১০টি বিধি রয়েছে। এর একটিতে বলা হয়েছে, ‘কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবেন না, এর সাহায্যে চাঁদা দেওয়া বা অন্য কোনো উপায়ে এর সহায়তা করবেন না এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপে নিজেকে জড়িত করবেন না।’ আরেক বিধিতে আছে, কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য কোনো অনুরোধ বা প্রস্তাব নিয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো সংসদ সদস্য বা অন্য কোনো বেসরকারি ব্যক্তির দ্বারস্থ হতে পারবেন না।
খসড়া চাকরিবিধিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক নিজ নামে প্রকাশিত কোনো লেখায় অথবা জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে অথবা পত্রিকায় এমন কোনো বিবৃতি বা মতামত প্রকাশ করতে পারবেন না, যা সরকারকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলতে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি হতে পারে, এমন বিতর্কিত ধর্মীয় বিষয়ে অংশগ্রহণ না করতেও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া খসড়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বিমা কোম্পানির এজেন্ট, কোনো ব্যবসা বা খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত না হতে এবং অভ্যাসগত ঋণগ্রস্ততা পরিহার করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সংবাদপত্র বা কোনো গণমাধ্যমে যোগাযোগ এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মাধ্যম ছাড়া ব্যক্তিগত বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
খসড়ায় রয়েছে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে হবে। জবাবে সন্তুষ্ট না হলে কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করবে। কমিটিতে জেলা সদরের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা তাঁর প্রতিনিধি, উপজেলার ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা তাঁর প্রতিনিধি, অভিভাবক প্রতিনিধি এবং একজন শিক্ষককে রাখতে হবে।
খসড়া চাকরিবিধিতে বলা হয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা হলে কর্তৃপক্ষ একান্ত প্রয়োজন মনে করলে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারবে। সাময়িক বরখাস্তকালীন বেতনের অর্ধেক খোরপোশ পাবেন। এ ছাড়া কোনো অভিযোগ আদালতের রায়ে মিথ্যা প্রমাণিত হলে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিকে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য চাকরিবিধির পদক্ষেপকে সমর্থন করেন সাবেক শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য চাকরি বিধিমালা রয়েছে। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরাও সরকার থেকে অর্থ পান। তাহলে তাঁদের জন্য কেন থাকবে না? অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশে প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেন, এতে পড়াশোনা বিঘ্নিত হয়। সুতরাং আমি মনে করি, এ ক্লজ অবশ্যই যৌক্তিক।’
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৫/০১/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
