চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান দৌড়ে আলোচনায় তিন জন

চট্টগ্রামঃ আসছে সপ্তাহে শূন্য হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ। বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুস্তফা কামরুল আখতারের চাকরির বয়স শেষ হওয়ায় পদটি খালি হচ্ছে। দীর্ঘ এক বছর আট মাস দায়িত্ব পালন শেষে চলতি মাসের ২১ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরোত্তর ছুটিতে যাচ্ছেন তিনি।  যদিও তিনি পিআরএলে যাওয়ার প্রায় এক মাস আগেই তাঁর প্রেষণ প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়।

ইতোমধ্যে নতুন চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। নতুন চেয়ারম্যান না আসা পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বোর্ড সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথ। যদিও বোর্ড চেয়ারম্যান হতে জোর আলোচনায় রয়েছে বোর্ড সচিবের নামও। তিনি ছাড়াও শিক্ষাবোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ এ পদের বিপরীতে শোনা যাচ্ছে আরও একাধিক নাম। মাস খানেক আগে থেকে দৌঁড়ঝাপও শুরু করেছেন অনেকে। তাদের নিয়েও চলছে অভ্যন্তরীণ আলোচনা।

জানা গেছে, গুরুপূর্ণ এই পদের বিপরীতে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তাদের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং একজন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা। বাকিরা বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং বিভাগীয় প্রধান। কিন্তু মনোনয়ন, তদবির এবং আবেদনের প্রেক্ষিতে দেখার বিষয় কে হচ্ছেন শিক্ষাবোর্ডের পরবর্তী নতুন চেয়ারম্যান!

বোর্ড চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন যারা—

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথ, ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক আবুল মনসুর ভূঁইয়া, গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক রনজিৎ কুমার দত্ত, চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, সরকারি সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ আবু মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, সরকারি সিটি কলেজের গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমিরুল মোস্তফা এবং পটিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

তবে চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে আলোচনায় থাকা এসব অধ্যাপকের ভিড়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন বোর্ড সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথ, ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক আবুল মনসুর ভূঁইয়া, এবং সরকারি সিটি কলেজের গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আমিরুল মোস্তফা।

এর আগে বোর্ড চেয়ারম্যান হতে গত দুই দফায় চেষ্টা করেছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক জাহেদুল হক। কিন্তু এবার আলোচনায় নেই বোর্ডের শীর্ষ এ কর্মকর্তা। এছাড়া গতবারও বোর্ড চেয়ারম্যানের জন্য দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক আবুল মনসুর ভূঁইয়া এবং পটিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তবে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে বোর্ড সচিব সবচেয়ে বেশি চেষ্টায় আছেন বলে জানা গেছে। যদিও তিনি এ পদের জন্য দৌড়ঝাঁপের কথা স্বীকার করছেন না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেস্টেজিয়াস (মর্যাদাপূর্ণ) এ পদ পেতে সবসময় সরকারি কলেজের অধ্যাপকরা চেষ্টা করে থাকেন। বলতে গেলে যাদের সুযোগ আছে তাদের প্রায় সবাই চেষ্টা করেন। অন্তত একবার হলেও যেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হতে পারেন। অন্যান্যবার এ পদের জন্য যারা চেষ্টা চালিয়েছেন এবারও তাদের চেষ্টা থাকবে তাই স্বাভাবিক। মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে একজন যোগ্য ব্যক্তিকেই এখানে আনা। কিন্তু তার কতটা বাস্তবায়ন হবে তা নিয়েই আমরা শঙ্কিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও আমরা বহুবার দেখেছি যে বারবার অনিয়ম করেও কেউ কেউ শাস্তির পরিবর্তে প্রমোশন পেয়েছেন। এই ব্যাপারটাই দুঃখজনক। চেষ্টা তদবিরে কিন্তু একজনই বেশি আলোচনাতে আছেন আর তিনি হলেন বোর্ড সচিব। তার চেয়ে বড় কথা আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর আর্শিবাদপুষ্ট কর্মকর্তা হলেন এই ব্যক্তি (বোর্ড সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথ)। এখন বাকিটা সময়ের অপেক্ষা। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়, কাকে মন্ত্রণালয় যোগ্য মনে করেন।’

উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর পিআরএলে গমনের সুবিধার্থে প্রেষণ প্রত্যাহার করে বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুস্তফা কামরুল আখতারকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যদিও সেই আদেশ কবে নাগাদ বাস্তবায়িত হবে তার কোনো ধরনের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীন স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে। সাধারণত শিক্ষা ক্যাডারের কোনো কর্মকর্তা পিআরএলে গেলে, ওই কর্মকর্তা ছুটিতে যাওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে প্রেষণ প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৭/০১/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.