এইমাত্র পাওয়া

ভোটের প্রচারে শতাধিক শিক্ষক, ভোট গ্রহণ কর্তা

শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকাঃ পিরোজপুর-১ আসনের ইন্দুরকানীতে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা মাঠে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন বলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে শিক্ষা কার্যক্রম রেখে শতাধিক শিক্ষক নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনে নৌকা প্রার্থীর অনুসারী এক আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের মোটরসাইকেল ও রামদা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন। বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করায় প্রার্থীর স্বামী পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজিকে তলব করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন আসনে প্রতিমন্ত্রীসহ ছয়জনকে শোকজ ও জরিমানা করা হয়েছে।

পিরোজপুর-১ আসনের ইন্দুরকানীতে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন– এমন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হয়। এর ভিত্তিতে পাঁচ সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে গত মঙ্গলবার শোকজ করা হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শ ম রেজাউল করিম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়ালের পক্ষে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা প্রচারে অংশ নেন।

শোকজ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন– সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র হালদার, হুমায়ুন কবির হাওলাদার, শিব শংকর, সন্তোষ কুমার শীল ও সুবল চন্দ্র শীল। তাদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম এ আউয়ালের পক্ষে প্রচারের অভিযোগ রয়েছে। তা ছাড়া রেজাউল করিমের পক্ষে কাজ করা তিন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হলেন হারেছ উদ্দিন শেখ, দেবদাস চন্দ্র মণ্ডল ও শাহীন হাওলাদার। তাদের বিরুদ্ধেও ইসিতে অভিযোগ গেছে।

অভিযুক্ত সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শিক্ষক হারেজ উদ্দিন শেখ বলেন, ‘আমি নৌকার পক্ষে কোনো সভায় বক্তব্য দিইনি। আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ মিথ্যা।’ সন্তোষ কুমার শীল বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি কারও পক্ষে প্রচারে ছিলাম না।’ অভিযুক্তদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বাদ দিয়ে শতাধিক শিক্ষক নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। নৌকার প্রার্থী এমপি নারায়ণ চন্দ্র চন্দের পক্ষে ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সদস্য বিশ্বজিৎ চন্দ্র চন্দ প্রচার চালাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন শতাধিক প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষক। স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আকরাম হোসেনের অভিযোগ, শিক্ষকরা ভোটের মাঠে থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকাশ্যে প্রচারে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন দেবাশীষ চন্দ্র চন্দ (এমপির ভাতিজা), উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক প্রভাষক গোবিন্দ ঘোষ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহকারী অধ্যাপক জি এম ফারুক হোসেন, প্রভাষক সমীর দে গোরা, প্রভাষক মাইকেল রায়, প্রভাষক সুলগ্না বসু (এমপির পুত্রবধূ), লাইব্রেরিয়ান জয়ন্ত মিত্র (এমপির ভাতিজি), সহকারী অধ্যাপক বিষ্ণুপদ মল্লিক, প্রভাষক অমিত বিশ্বাস অপু, প্রভাষক সত্য প্রসাদ মল্লিকসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষক।

নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিলের অনুসারী এক আওয়ামী লীগ নেতা মোটরসাইকেল ও রামদা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশদাতার নাম সাজিদুল ইসলাম ওরফে সঞ্জু। তিনি কেন্দুয়া উপজেলার গণ্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং গণ্ডা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান।

গত মঙ্গলবার রাতে গণ্ডা বাজারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বর্ধিত সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে একটি ছুরি দেখিয়ে কীভাবে মোটরসাইকেল ও অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে হবে, তা খুলে বলেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা। এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, গণ্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর উদ্দেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বক্তৃতা করছেন সাজিদুল ইসলাম। এ সময় নিজ কোমর থেকে ছোট একটি ছুরি বের করে তিনি বলেন, ‘যার যা কিছু আছে, তাই নিয়া আপনারা মোকাবিলা করবেন। আমিও খালি হাতে যাই না। নিজেও এইটা নিছি। আগামীকাল ৯টা থেকে ওয়ার্ডের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিরা একটা করে মোটরসাইকেল নিয়া বাইর হবেন। সাথে একজন লোক নিবেন এবং হেলমেট পরবেন। আর কেউ খালি হাতে আসবেন না। একটা করে রামদা নিয়া বাইর হবেন। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের যারা আছো, তাদের প্রত্যেকেরই গাড়ি (মোটরসাইকেল) আছে। তোমরাও সেভাবেই বাইর হইবা।’

সাজিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে ফোন ধরেননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু বলেন, নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা এভাবেই ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। অসীম কুমার উকিল বলেন, ‘দলীয় নেতাকর্মীর রামদা নিয়ে বের হওয়ার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’ নেত্রকোনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ জানান, ভিডিও ফুটেজটি পাওয়ার পর পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাজাদী আলম লিপির স্বামী পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল হক মিলনকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালতে তলব করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে তবলা মার্কার প্রার্থী স্ত্রীর পক্ষে প্রচার চালান তিনি।

রাস্তা দখল করে নির্বাচনী সমাবেশ করায় হবিগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীকে শোকজ করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের নির্বাচনী সভায় সাম্প্রদায়িক ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা নবী হোসেনকে শোকজ করা হয়েছে।

বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে নৌকার বিপক্ষে ভোট চেয়ে আলোচনায় আসা ইউপি একরাম ইজারাদারকে তলব করেছে অনুসন্ধান কমিটি। বগুড়া-৬ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু, স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু ও তাঁর ভাইকে আদালতে তলব করা হয়েছে।

বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মিজানুর রহমান তাঁর নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় হুইপ সামশুল হককে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁর পক্ষ নেওয়ায় পটিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সোলাইমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।  সমকাল

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৪/০১/২০২৪

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.