এইমাত্র পাওয়া

ফিনল্যান্ডে শিক্ষকদের বেতন সর্বোচ্চ, শিক্ষা নেবে আর বেতন?

কাকন রেজা: প্রথম কী গাড়ি না ঘোড়া? ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োগের আগে দেশটাকে ফিনল্যান্ডের পর্যায়ে আনা দরকার নয় কি? চলুন তুলনা করি বাংলাদেশ ও ফিনল্যান্ডের অবস্থানের। প্রথমে বলি ফিনল্যান্ডের কথা। উইকিপিডিয়ার ভাষাতেই বলি প্রথমে মাথাপিছু আয়ের কথা। বলতে গেলে একটু বাধো-বাধো ঠেকে, তারপরও উপায় নেই বলতে হয়। তাদের মাথা পিছু আয়, ৪৮ হাজার ৪৬১ ডলার। না, টাকা নয়, ডলার। তুলনায় আমাদের সরকারি হিসেবটাই বলি। ডলারের হিসেবে ২ হাজার ৭৬৫ ডলার। অবস্থান ১৪৫ তম। বিপরীতে ফিনল্যান্ডের অবস্থান ১৪ তম। গণিতের হিসেবে পার্থক্যের অঙ্কটা আপনাদের জন্য তোলা রইলো। মানব সূচক উন্নয়নের কথায় আসি, ফিনল্যান্ডের অবস্থান বিশ্বে ১১ তম। আর বাংলাদেশে ১২৯ তম। আসি সুখী দেশের সূচকে। কী দিয়ে এই সূচক নির্ধারণ করা হয় তা নিয়ে প্রথমে বলি। সুখী দেশ নির্ধারণে ৬টি সূচক রয়েছে, জিডিপি তথা মোট দেশজ উৎপাদন, সামাজিক সহায়তা, সুস্থ জীবন যাপনের প্রত্যাশা, জীবনযাপনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা, বদান্যতা, দুর্নীতি নিয়ে মনোভাব ও ডিসটোপিয়া। এখন সুখী দেশের সূচকের অবস্থানগত দিকটা দেখি। ২০২৩ এর ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’ অনুযায়ী এক নম্বরে রয়েছে ফিনল্যান্ড। বিপরীতে আমাদের দেশ রয়েছে ১৩৭টি দেশের মধ্যে ১১৮ নম্বরে। পেছনে রয়েছে কয়টি দেশ এবং কোন কোন দেশ, সঙ্গে কেন আমরা ১১৮ নম্বরে সে পার্থক্যের অঙ্কটাও আপনাদের দিলাম এবং তা সুখী দেশ নির্ধারণের ৬টি সূচক ব্যবহারে।

পার্থক্যের অঙ্ক করার আগে অঙ্কের সূত্রগুলো ধরিয়ে দেবার জন্য সামান্য টিপস দিয়ে নিই। প্রথমটা হলো জিডিপি’র হিসেব। আমাদের জিডিপি’র প্রায় ৪১ শতাংশের উপরে ধার করা। অর্থাৎ বিদেশি ঋণের উপর। এ বছরের জানুয়ারির হিসেব এটা, তাও আমার হিসেব নয়, গণমাধ্যমের, যা সরকারি পরিসংখ্যান থেকে নেয়া। একে বলতে পারেন কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ প্রকল্প। কোরবানি ঈদের আগে মুনাফাখোর গরু ব্যবসায়ীরা যেমন স্টেরয়েড দিয়ে গরুকে মোটাতাজা করে, অনেকটা তেমনি। আরেকটা হলো, সুস্থ জীবনযাপনের প্রত্যাশা ও সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতার বিষয়। সুস্থ জীবন যাপনের প্রত্যাশার ব্যাপারটি আপনারাই ভালো বোঝেন। যেখানে সকালে বাসা থেকে বেরুলে রাতে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। যেখানে শোবার ঘরের নিরাপত্তা দেবার কথা স্বয়ং রাষ্ট্র ব্যবস্থা দ্বারা অস্বীকৃত হয়। সেখানে সুস্থ জীবন-যাপনের আশা করাটা অতি আশাবাদীদের বিষয়, যাদের বসবাস মূলত ইউটোপিয়ায়। সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতার ব্যাপারে বলি। রাজনৈতিক বিষয় বাদ দিই। যেখানে একজন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে পড়বে সে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তার নেই, সেখানে সিদ্ধান্তের আলাপ তোলাটাই দুঃসাহসের ব্যাপার। বদান্যতা শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো, উদারতা। যেখানে রাজনৈতিক মতভেদের কারণে প্রতিপক্ষের হাত-পা ভেঙে দেয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দেয়া হয় এবং যে দেয় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না, সেখানে বদান্যতা তথা উদারতা নিয়ে কথা না বলাই ভলো। আর দুর্নীতি বিষয়ে বলতে গেলে, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের আলাপ তো রয়েছেই; রয়েছে একজন স্বল্পবেতনের অফিস পিয়নের শতকোটি টাকার সম্পদের আলাপ। ঘুষকে ‘স্পিড মানি’ হিসেবে যেখানে আখ্যা দেয়া হয়, সেখানে দুর্নীতি বিষয়ে কথা না বলি।

এখন আসি মূল কথায়, ফিনল্যান্ডের শিক্ষা নিয়ে এবং তা সরাসরি উইকিপিডিয়া থেকেই তুলে দিই। উইকিপিডিয়া বলছে, ‘শিক্ষা একটি জন্মগত অধিকার ও রাষ্ট্রকর্তৃক প্রদত্ত সেবা হিসেবে বিবেচিত হয় ফিনল্যান্ডে। এখানে ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী ছেলেমেয়েরা বিনামূল্যে শিক্ষা লাভ করে। প্রাথমিক স্কুলে ৬ বছর এবং মাধ্যমিক স্কুলে ৩ বছর লেখাপড়া করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। গবেষণায় ফিনল্যান্ডের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিশ্বের শিক্ষাছকের শীর্ষে অবস্থান করছে। গবেষণার ফলাফল ভাষা, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়াবলীর ভিত্তিতে হয়েছে। উচ্চশিক্ষার জন্য ফিনল্যান্ডে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়, অসংখ্য কলেজ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ স্কুল রয়েছে। ইউরোপের যে দেশেগুলোতে টিউশন ফি ছাড়া উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা যায় তাদের একটি ফিনল্যান্ড।’ কী বুঝলেন? এবার পার্থক্যের অঙ্কটা মেলান আপনারাই। আপনাদের সুবিধার্থে আরেকটি তথ্য যোগ করি, ফিনল্যান্ডে শিক্ষকদের বেতন কিন্তু সর্বোচ্চ। আর কথা বাড়াই না। বাড়ালেই আরো অপ্রিয় সত্য কথা বলতে হবে। প্রথমেই বলেছি, ফিনল্যান্ডের শিক্ষা চালু করার আগে, দেশটাকে ফিনল্যান্ডের কাছাকাছি পর্যায়ে আনা জরুরি। ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দিলে গাড়ি বা ঘোড়া কোনোটাই এগুবো না, কথাটা মনে রাখা দরকার। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৪/১২/২০২৩  

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়

“মুক্তমত ও সাক্ষাৎকার কলামে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখকের নিজস্ব। শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, শিক্ষাবার্তা কর্তৃপক্ষের নয়।”


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.