ঢাকাঃ এবার তিন লাখ পরীক্ষার্থী পাসই করতে পারেননি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়। গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে জিপিএ-৫। বেড়েছে ইংরেজিতে অকৃতকার্যের হার। শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, কোভিডকালীন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমে এসএসসিতে যে শিখন ঘাটতি হয়েছিল, তা এইচএসসিতেও কাটিয়ে উঠতে না পারায় এ ফল বির্পযয়। তবে এ অবনমনকে স্বাভাবিক বলছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা আনন্দের জোয়ারে ভাসলেও ভাটা পড়ে বড় একটি অংশ। তাদের সংখ্যাও কম নয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১৩ লাখ ৫৯ হাজারা ৩৪২ জনের মধ্যে অকৃতকার্য প্রায় ৩ লাখ পরীক্ষার্থী। অকৃতকার্যের সংখ্যা যখন রেকর্ড সংখ্যক আর হার যখন উর্ধ্বগামী, তখন তা নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
আর সেই আলোচনা-সমালোচনায় যুক্ত হয়েছে নিম্নগামী জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যাও। গত বছর ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮২ জন জিপিএ-৫ পেলেও চলতি বছর তা কেন ৯২ হাজার ৫৯৫ জন? এমন প্রশ্নও আছে। বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ অর্ধেকে নেমে আসার কারণ নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণও।
এবার বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা আর মানবিক সব শাখা মিলে সবচেয়ে বেশি অকৃতকার্য ইংরেজি বিষয়ে, শতকরা হিসাবে তা ১৫ শতাংশ। এছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় হিসাব বিজ্ঞানে আর বিজ্ঞান শাখায় রসায়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং পদার্থ বিজ্ঞানে অকৃতকার্যের হার বেশি।
স্বল্পসময়ের ব্যবধানে ফলাফলের এ অবস্থাকে বিপর্যয় অ্যাখ্যা দিয়েছেন এ শিক্ষা বিশ্লেষক। তার মতে, প্রশ্নপত্রের কাঠামো অনুযায়ী পরীক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় ফলাফলে এ বিপর্যয় হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এসএম হাফিজুর রহমান বলেন, তিন লাখ পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন। তাহলে দাড়াচ্ছে এই শিক্ষার্থীর প্রতি সরকার, পরিবার ও নিজেকেও আবার বিনিয়োগ করতে হবে। এই বিপর্যয় আগেই অনুমিয় ছিল আমার কাছে। শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ণভাবে শিক্ষা গ্রহণ করে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে বলে, আমি মনে করি না।
এবার বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা আর মানবিক সব শাখা মিলে সবচেয়ে বেশি অকৃতকার্য ইংরেজি বিষয়ে, শতকরা হিসাবে তা ১৫ শতাংশ। এছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় হিসাব বিজ্ঞানে আর বিজ্ঞান শাখায় রসায়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং পদার্থ বিজ্ঞানে অকৃতকার্যের হার বেশি।
স্বল্পসময়ের ব্যবধানে ফলাফলের এ অবস্থাকে বিপর্যয় অ্যাখ্যা দিয়েছেন এ শিক্ষা বিশ্লেষক। তার মতে, প্রশ্নপত্রের কাঠামো অনুযায়ী পরীক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় ফলাফলে এ বিপর্যয় হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এসএম হাফিজুর রহমান বলেন,তিন লাখ পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন। তাহলে দাড়াচ্ছে এই শিক্ষার্থীর প্রতি সরকার, পরিবার ও নিজেকেও আবার বিনিয়োগ করতে হবে। এই বিপর্যয় আগেই অনুমিয় ছিল আমার কাছে। শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ণভাবে শিক্ষা গ্রহণ করে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে বলে, আমি মনে করি না।
এছাড়া এসব পরীক্ষার্থীর মাধ্যমিকপর্যায়ে কোভিডের সময়ে হওয়ায় তারা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে ছিলো। এতে উচ্চ মাধ্যমিকেও ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই যে শিক্ষাক্রমে ফাঁক রেখে পরবর্তীতে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় বেশি দিন ঠিকে থাকতে পারবে না। তারা পরবর্তী ধাপে ধাপে আটকে যাবে।
তবে ফলাফলের তুলনামূলক এ অবনমনকে স্বাভাবিক বলছেন শিক্ষামন্ত্রী।
রবিবার (২৬ নভেম্বর) ফলাফল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, গতবছরের পরীক্ষার সঙ্গে এবছরের পরীক্ষাটা তুলনীয় নয়। গতবছরের পরীক্ষা কম সংখ্যক বিষয়ে হয়, কম সময়ে হয়েছে। আর এবারের পরীক্ষা পুরো সময়ে হয়েছে।
ফলাফলের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের উপর জোর দেয়ার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল রোববার (২৬ নভেম্বর) প্রকাশ করা হয়। পরীক্ষায় কেউ ফেল করলে বা কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলে, তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের এ আবেদন সোমবার (২৭ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়ে চলবে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে গড় পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। কমেছে পাসের হারও।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৭/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
