বগুড়াঃ জেলার শেরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাম অফিস সহকারী সোলায়মান আলী সরকারি চাকরি বিধি অমান্য করে একই কর্মস্থলে ২১ বছর ধরে চাকরি করে আসছেন। কাউকে তোয়াক্কা না করে অফিসটিকে দীর্ঘদিন ধরে নিজের কব্জায় রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সেবা নিতে আসা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না ওই অফিস সহকারী। এমনকি ঘুস না দিলে প্রতিষ্ঠানের কোনো ফাইলও নড়ে না। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে একই অফিসে কর্মরত থাকায় তার অন্যায় দাবি ও অসৎ আচরণে ক্ষুব্ধ শিক্ষক-কর্মচারীরা এবার সোচ্চার হয়েছেন। সেই সঙ্গে ওই অফিস সহকারীর হাত থেকে মুক্তি পেতে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০২ সালের অক্টোবর মাসে শেরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাম অফিস সহকারী পদে যোগদান করেন সোলায়মান আলী। এরপর থেকে অদ্যাবধি দীর্ঘ ২১ বছর একই কর্মস্থলে রয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিজেকে একজন ক্ষমতাধর কর্মকর্তা মনে করেন। তাই অফিসে বসেই ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন সোলায়মান আলী। সেই সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে অফিসের কম্পিউটার ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যানবেইস জরিপ, অনলাইন এমপিও আবেদনসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন তথ্য এন্ট্রির কাজ করেন। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজের নামে পাসওয়ার্ড গ্রহণ করে পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
এ অফিস সহকারীর অসৎ আচরণে উপজেলার শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে ওই অভিযোগে। এ ব্যাপারে উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল হাই বারি ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সহকারী সোলায়মান আলী দীর্ঘ ২১ বছর ধরে এখানে থাকার কারণে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না। তাই আমরা তার বদলির দাবি জানিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। দ্রুত বদলি না হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।’
তবে অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. সোলায়মান আলী নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘একটি কুচক্রী মহল আমার প্রমোশন বাধাগ্রস্ত করার জন্য এ মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।’ অচিরেই এ কর্মস্থল থেকে চলে যাবেন বলেও জানান তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সোলাইমান আলী এখানে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন। আমি যোগদানের পর জানতে পেরে তাকে বদলির বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি ছুটিও নিয়েছেন। ইতোমধ্যে অভিযোগটি দিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যেই অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য কমিটি করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
