নিজস্ব প্রতিবেদক।।
পাঁচটি শ্রেণিকক্ষে সারি সারি চেয়ার-বেঞ্চ। শিক্ষকের জন্য টেবিল। ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতিও আছে। নেই শুধু ক্লাস নেওয়ার শিক্ষক।
৮০ জন শিক্ষার্থী স্কুল মাঠে খেলাধুলা করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় পঞ্চম শ্রেণির চার শিক্ষার্থী প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির পাঠ দিচ্ছে।
এই চিত্র কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পাণ্ডুল ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত মালতিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এক সপ্তাহ ধরে এভাবেই চলছে বিদ্যালয়টি।
এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০৪। শিক্ষক মাত্র একজন। তাঁকে প্রশাসনিক কাজেই বেশি সময় দিতে হচ্ছে।
শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের তেমন সময় পাচ্ছেন না।
শিক্ষক তামান্না ফেরদৌসী বলেন, ‘বিদ্যালয়টির পদসংখ্যা ৭। শুধু আমি একাই আছি। অন্য শিক্ষকরা বদলি হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ায় এখন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকটা দৌড়ের ওপর থাকতে হয়।
স্কুলের তালা খোলা, পতাকা উত্তোলন, শ্রেণিকক্ষ সামলানো, প্রশাসনিক কাজসহ সব কাজ আমাকে একাই করতে হচ্ছে। এ জন্য সব ক্লাস নেওয়া হয়ে ওঠে না।’
তিনি জানান, ২০২২ সালের নভেম্বরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম অবসরে যাওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ে কোনো প্রধান শিক্ষক দেওয়া হয়নি। সহকারী শিক্ষক মালা রাণী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলেও সম্প্রতি তিনিসহ বিলকিস জাহান নামের অন্য একজন সহকারী শিক্ষক অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি হন।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অজিত কুমার, হরিপ্রিয়া, আইরিন খাতুন ও মিনা আক্তার জানায়, শিক্ষক না থাকায় তারা পালা করে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস নেয়। অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে খেলাধুলা করে বাড়ি ফিরে যায়।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হাফিজুর রহমান জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মালা রাণীর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়মিত না আসা, স্লিপের টাকার হিসাব না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় তিনি তড়িঘড়ি করে বদলি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যান। যাওয়ার সময় তিনি তামান্না ফেরদৌসীকেও দায়িত্ব দিয়ে যাননি। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। মালা রাণীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের দাতা সদস্য জয়নাল আবেদীন, অভিভাবক সদস্য হাওয়ানুর বেগম ও স্থানীয় অধিবাসী নাজমুল হাসান অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা শিক্ষা অফিসের উদাসীনতার কারণে বিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তা না হলে কিভাবে তিনজন কর্মরত শিক্ষকের মধ্যে দুজন শিক্ষককে একসঙ্গে বদলি করা হয়? পাণ্ডুল ইউপির সদস্য নওয়াব আলী জানান, বিদ্যালয়ের অচলাবস্থার বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষক না থাকার বিষয়টি উপজেলা পরিষদের সমন্বয়সভায় তুলে ধরব।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান, বদলি হওয়া দুই শিক্ষকের মধ্যে প্রায়ই বচসা লেগে থাকত। প্রশাসনিক কারণে সুপারিশ করার পর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাঁদের বদলি করেছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন সরকার বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে ওই বিদ্যালয়ে দুজন শিক্ষক পদায়ন করা হবে।’কালের কন্ঠ
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৭/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
