নাঈমুল ফারাবি।।
অক্টোবরজুড়ে দেশে পালিত হলো ‘সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস’। সাইবার দুর্বৃত্তদের কবল থেকে নাগরিকদের রক্ষায় এ মাসব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিটি তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে ২০২১ সালে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বেসরকারি উদ্যোগে গঠিত হয় সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস (ক্যাম)-বিষয়ক জাতীয় কমিটি। এবারও সংগঠনটি তৎপর ছিল।
বাংলাদেশে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো এটি পালনের উদ্যোগ নেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস (সিসিএ) ফাউন্ডেশন। এ ফাউন্ডেশন ওই বছর সাইবার অপরাধ প্রবণতা নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে একটি স্থানীয় ও প্রাসঙ্গিক চিত্র ফুটে ওঠে। এ গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে ২০১৯-২০ সালে বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে সামাজিক মাধ্যমসহ অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং বা তথ্য চুরি। জরিপ থেকে এটিএম কার্ড হ্যাকিংয়ের মতো একটি নতুন অপরাধ শনাক্ত করা হয়।
জরিপে সাইবার অপরাধের তুলনামূলক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়। এতে প্রথম স্থানে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনা– ২৮ দশমিক ৩১ শতাংশ, যা ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে ছিল ১৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ অবস্থা নির্দেশ করে যে দেশে ‘সাইবার সচেতনতা’ বাড়ানোর পাশাপাশি ‘সাইবার লিটারেসি’ও বাড়ানো জরুরি
হয়ে পড়েছে।
সম্ভবত এ প্রেক্ষাপটেই সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে একাডেমিক শিক্ষাও শিক্ষার্থীদের কাছে ইদানীং যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তার বেহাল দশা সম্পর্কে ওপরে একটা ধারণা দেওয়া হয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনাও সবার জানা।
কিছুদিন আগে প্রকাশ্যে এসেছিল সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য চুরির ঘটনা। এসব কারণে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষ জনবলের চাহিদাও ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। আমাদের দেশে ক্যারিয়ার হিসেবে সাইবার নিরাপত্তার জনপ্রিয়তা তাই দিন দিন বেড়ে চলেছে। তবে দুঃখজনকভাবে এ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে দেশে সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষা দেওয়ার জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, সেগুলোতে চলছে একপ্রকার প্রতারণা।
প্রথমত, দেশে খুব বেশি মানুষের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই। দ্বিতীয়ত, এ শিক্ষার জন্য যে অবকাঠামো প্রয়োজন, সেটি সম্পর্কেও খুব কম মানুষই ধারণা রাখে। তাই দেশের এ খাতের শিক্ষাজগতে অনেকাংশেই চলছে অযোগ্য ব্যক্তিদের আধিপত্য। নতুন কোনো শিক্ষার্থী সাইবার নিরাপত্তার জ্ঞান লাভের ইচ্ছা পোষণ করলে তাকে ইন্সট্রাক্টর বাছাই করার সময় প্রতারিত হতে হচ্ছে। একজন সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্টের মূল কাজ বাগ হান্টিং, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন পেন্টেন্টি, ডিজিটাল ফরেনসিক, সিকিউরিটি অ্যানালিজম ইত্যাদি। কিছু মানুষকে দেখা যাচ্ছে নিজের বাগ হান্টিংয়ের তেমন কোনো ইতিহাস না থাকা সত্ত্বেও অন্যদের বাগ হান্টিং শিক্ষা দিচ্ছেন। অনেকের পেশা হলো মানুষকে ফাঁকি দিয়ে কোর্স বিক্রি করা। এতে একজন নতুন শিক্ষার্থীর অর্থের অপচয় হচ্ছে। দেশেও গড়ে উঠছে না প্রত্যাশিত মানের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ।
সাইবার জগতে বাংলাদেশি এক্সপার্ট নেই তা কিন্তু নয়। তবে শত শত নকল মানুষের মাঝে সঠিক ব্যক্তি খুঁজে বের করা কঠিন চ্যালেঞ্জ। নকল মানুষেরা নিজেদের মার্কেটিং এমনভাবে করেছেন যে সঠিক মানুষটি হারিয়ে যাচ্ছেন তাদের ভিড়ে। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন রইল স্মার্ট সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে এ ধরনের ‘স্মার্ট’ প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। নতুবা সাইবার নিরাপত্তা ভবিষ্যতে আরও বিপন্ন দশায় পড়বে।
নাঈমুল ফারাবি শিক্ষার্থী, সিএসই, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৪/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
