ঢাকাঃ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রতিনিধি নির্বাচনের মতো ডিন নির্বাচনে প্রশ্নবিদ্ধ ভোট চায় না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শিক্ষকরা। ডিন নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেই দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। ডিন নির্বাচন নিয়ে আরটিভি পাঁচজন প্রার্থী ও ১০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের প্রত্যেকেই বলেন, এই নির্বাচনের ব্যালট পেপারে যেন নম্বর দেওয়া না থাকে এবং বিধি অনুযায়ী ভোটার হওয়ার যোগ্য নয় এমন কেউ যেন ভোট দিতে না পারে।
আগামী ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ৬টি অনুষদের ডিন নির্বাচন। এরইমধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে ২২ জন বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন। প্রার্থীর বিষয়ে কোনো আপত্তি এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে আগামীকাল চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ছয়টি অনুষদ হলেও ভোটগ্রহণ হবে পাঁচটিতে। প্রতিদ্বন্দ্বী কোন প্রার্থী না থাকায় প্রিভেন্টিভ এন্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদের ডিন হতে যাচ্ছেন বর্তমান ডিন পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল হক। ছয়টি অনুষদে মোট ভোটার ৪শ ৭৪ জন। তবে প্রিভেন্টিভ এন্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় একজন ডিন হওয়ায় সেখানকার ৭ জন ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না। ফলে ভোট প্রদান করবেন ৪৬৭ জন।
চলতি বছরের ২৩ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) দুই শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন। ভোটার তালিকা প্রণয়নে ক্রুটি এবং ব্যালট পেপারে নম্বর থাকায় পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ ও ক্রটিপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন শিক্ষকরা।
সেই ভোট গ্রহণের পর আরটিভির হাতে আসে কয়েকটি ব্যালট পেপারের ছবি। ব্যালটের উপরের দিকে ডান পাশে একটি নম্বর দেখা যায়। ব্যালট পেপারের আরেকটি অংশেও একই নম্বর ছিলো। শিক্ষকদের অভিযোগ ছিলো ভোটারদের চিহ্নিত করে রাখতেই ব্যালট পেপার নম্বর যুক্ত করা হয়েছিলো। এতে ভোটাররা নিজেদের পছন্দমতো প্রার্থী বাছাই করতে পারেননি।
অভিযোগ ছিলো, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদেরও ভোট গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার। কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষক ছিলেন সেই তালিকায়।
ডিন নির্বাচন যেন এমন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেই দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রার্থীরা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী ৫ জন প্রার্থী ও ১০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা প্রত্যেকেই বলেন, এই নির্বাচনের ব্যালট পেপারে যেন নম্বর দেয়া না থাকে এবং বিধি অনুযায়ী ভোটার হওয়ার যোগ্য নয় এমন কেউ যেন ভোট দিতে না পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রার্থী জানান, বিএমডিসি নির্বাচনে ব্যালটে নম্বর যুক্ত করে ভোটারদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা হয়েছিলো। এর ফলে অনেক ভোটারই নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেননি। এবার যেন এমনটি না ঘটে। ভোটার তালিকায় যেন অযোগ্য কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা না হয় সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপকের কথায় উঠে আসে একই বিষয়বস্তু। তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচন থেকে আমরা যারা ভোটার, আমরা শঙ্কিত। গতবার যে অনিয়মটা হয়েছে আমরা ভোটাররা প্রথমে বুঝতে পারিনি। মুড়ির মধ্যেও কিন্তু সিরিয়াল নম্বর দেয়া ছিলো। সে চাইলেই জানতে পারবে আমরা কাকে ভোট দিয়েছি। এটা আসলে একজন ভোটারকে বলা যায় নগ্ন করে দেয়ার মতো একটা অবস্থা। দুঃখজনক হলেও সত্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ডিন নির্বাচন নিয়মিতভাবে হয়ে আসেনি। যখন যে প্রশাসন এসেছে, তার মতো করে প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে ডিন নিয়োগ দিয়েছেন। সেটা হওয়া উচিৎ না। ডিন নির্বাচনটা কেবল এইবারের জন্য নয়; প্রতিবারের জন্য স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হোক। যে নির্বাচনে শিক্ষকরা যোগ্য শিক্ষককেই ডিন হিসেবে নির্বাচিত করতে পারবে। তাদের যে ভোটাধিকার তার নির্ভয়ে, কোন প্রলোভনে না পড়ে ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন। ব্যালট পেপারে নম্বর থাকা একটা অস্বচ্ছতার জায়গা। অতীতের যে অভিযোগ ও প্রশ্নগুলো ছিলো সেগুলো এবার আর পুনরাবৃত্তি হবে না।
ডিন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. হাফিজুর রহমান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম। কমিশনের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ সালাহ্ উদ্দিন সিদ্দিক।
ডা. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ডিন নির্বাচনে ব্যালট পেপারের মধ্যে কোন নম্বর থাকবে না। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছে। সে প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিধি অনুযায়ী যেসব শিক্ষক ভোটার হওয়ার যোগ্য কেবল তাদেরকেই ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে। আপত্তির মুখে বেশ কয়েকজন শিক্ষকের ভোটাধিকার বাতিল করা হয়েছে।
সবশেষ ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও আর কোন নির্বাচন হয়নি। প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে ডিন পদে নিয়োগ দিয়েই চালানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৭/০৯/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
