এইমাত্র পাওয়া

আমাদের সন্তানেরা যেন বিদেশে চলে যাওয়ার স্বপ্ন না দেখে

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: ইংল্যান্ডের ক্রিকেট খেলোয়াড় Ollie Robinson-কে চিনেন? ইংল্যান্ডের কাউন্ট্রি ক্রিকেটে খেলে পোক্ত হওয়ার পর শেষমেশ ২০২১ সালে ইংল্যান্ডের জাতীয় টেস্ট ক্রিকেট স্কোয়াডে জায়গা পান তিনি। প্রথম টেস্টেই ৭ উইকেট নিয়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। তিনি যখন লাইম লাইটে আসেন একইসঙ্গে লাইম লাইটে আসে ২০১২ সালে টুইট করা কিছু racist and sexist টুইটস। এতো ভালো খেলেও সে কিন্তু রক্ষা পাননি। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি ঘোষণা করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত হয়। সেই বছরের জুন মাসেই তাকে ইংল্যান্ড স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর নাম ইংল্যান্ড। শুধু ইংল্যান্ড নয়। অস্ট্রেলিয়ার Tim Paine এর ক্ষেত্রেও প্রায় একই ঘটনা ঘটে। সেও মাঠের বাহিরে এক নারী ক্রিকেটারের সঙ্গে ইম্প্রোপার এক্টের কারণে তাকে ক্যাপ্টাইন্সি ছাড়তে হয়েছিল।

জাতীয় খেলোয়াড়রা জাতীয় হিরো। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের ফলোয়ার হয়। হিরো হওয়ার যোগ্যতা লাগে। আমাদের দেশের নারীদের কারণে দেশের গার্মেন্টস শিল্প টিকে আছে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রা যেটুকু আছে সেটুকুর জন্য আমরা এই নারীদের কাছে ঋণী। আমাদের স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ভালো মানের নারী শিক্ষক ও নারী গবেষক আছেন। তাদের ছাড়া এই বাংলাদেশকে একটু কল্পনা করুণ তো। দেশের হাসপাতালগুলোতে কতো হাজার নারী ডাক্তার ও নার্স মানুষের সেবা করছে। তাদের ছাড়া এই বাংলাদেশকে একটু কল্পনা করুন তো। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম হোসেন ভবনে কিছু উন্নয়ন কাজ চলছে। প্রতিদিন সকালে গিয়ে দেখি পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও কাজ করছে। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মেয়েরা এখন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় এবং তারা ছেলেদের চেয়ে ভালো করছে। অর্থাৎ পরিবেশ দিলে নারীরাও পুরুষদের মতো কিংবা আরো ভালো করতে পারে। ধরুন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেয়েরা পড়ছে না। এইটা তো আফগানিস্তান হয়ে যাবে।

ছেলেমেয়ে একসঙ্গে পড়ছে বলেই বিশ্ববিদ্যালয়টা এতো সুন্দর। ছেলেদের উপস্থিতি মেয়েদের এবং মেয়েদের উপস্থিতি ছেলেমেদের আরো ভালো করার অনুপ্রেরণার জ্বালানি হতে পারে। যখন দেখি কোনো ছাত্র বা ছাত্রী মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত। তাকে সাহায্যের জন্য ছেলেমেয়ে একসঙ্গে অর্থ সাহায্য তুলে দেখে কী ভালো লাগে। আর এইটাকে যদি বলে ফ্রি মিক্সিং, কী মারাত্মক ভাবনা। ফ্রি কাকে বলে? একসঙ্গে মিশতে হলে টাকা লাগবে নাকি? ফ্রি মিক্সিং মানে ফ্রি নয়। কেউ ইচ্ছে করলেই কারো বন্ধু হয়ে যেতে পারে না। কে কার বন্ধু হবে, এটা পরস্পরের সম্মতিতে নির্ধারিত হয়।

বাংলাদেশে যে সমস্যা অনেক বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সেটা হলো ছেলেরা বা পুরুষরা আমাদের নারীরা কেমনভাবে চলবে, কেমন ড্রেস পড়বে ইত্যাদি সারাক্ষণ পেঁচাল করে। কই নারীরা তো ছেলেদের পোশাক, ছেলেরা কীভাবে চলবে ইত্যাদি নিয়ে কোনো কথা বলে না। আমরা ছেলেরা কতটা নষবংংবফ বুঝতে পারছেন? দেশের যে এতো এতো গভীর সমস্যা আছে সেগুলো নিয়ে কথা নেই। দেশের ঘুষ, দুর্নীতি, অর্থ পাচার, খাদ্যে ভেজাল, নদী খাল দখল, মাদক ব্যবসা ইত্যাদি সমস্যা নিয়েতো আলাপ কম দেখি। কেন? অথচ এইগুলো আমাদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে দিচ্ছে। এইগুলোই আসল ম্যাটার্স। আসুন আমরা সবাই মিলে দেশটাকে সুন্দর করে গড়ি যেন আমাদের সন্তানরা এই দেশে সুন্দর জীবন পায়। আমাদের সন্তানেরা যেন বিদেশে চলে যাওয়ার স্বপ্ন না দেখে। লেখক:

শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২১/০৯/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.