এইমাত্র পাওয়া

বোতলজাত পানির বাজার অস্বাভাবিক

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

বাজারে জিনিসপত্রের দাম নিয়ে যে অস্থিরতা চলছে, তার আঁচ লেগেছে বোতলজাত খাওয়ার পানিতেও। আধা লিটার পানির দাম বেড়েছে ‘অস্বাভাবিক’ হারে। খুচরায় ৫০০ মিলিলিটারের প্রতি বোতলে মুনাফা করা হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য সওদাগর মুস্তাফিজুর রহমান।

চিঠিতে বলা হয়েছে, পানির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি জানার পর বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন গত ২০ আগস্ট রাজধানীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে। এতে কমিশনের টিমের কাছে মনে হয়েছে, বাজারে পানির দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে।

বাজারে আধা লিটারের বোতলজাত পানির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কয়েক মাস আগে আধা লিটারের এক বোতল পানির দাম ছিল ১৫ টাকা, এখন হয়েছে ২০ টাকা। এক লিটার, দেড় লিটার, দুই লিটার, পাঁচ লিটারের বোতলজাত পানির দামও প্রায় পাঁচ টাকা করে বেড়েছে।

পরিদর্শনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা কমিশন বলছে, বর্তমানে বাজারে যে সব বোতরজাত পানি বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে অ্যাকোয়ফিনা, কিনলে, মাম, ফ্রেশ, পুষ্টি ও জীবন ব্র্যান্ডের ৫০০ মিলিলিটার পানির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ছিল ১৫ টাকা। পাইকারি মূল্য ১১ থেকে ১২ টাকা। অর্থাৎ ৫০০ মিলিলিটারের বোতল খুচরা পর্যায়ে ৮ থেকে ৯ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, ‘পানির দাম হঠাৎ বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। এটি আমাদেরও নজরে এসেছে। কিছু মার্কেট যাচাই করে তথ্য সংগ্রহ করছি। কত দাম ছিল, এখন সেই পানির বোতলের দাম কত, কারা কমিশন নেয়- এসব বিষয় তদন্ত করে আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। এ ছাড়া জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকারের সঙ্গে কাজ করা হবে।’

জানা গেছে, দেশে পানির বাজার এখন হাজার কোটি টাকার। প্রতিবছর ৩৫ থেকে ৪০ কোটি লিটার বোতলজাত পানি বিক্রি হয়। ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী বড় বড় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেরই এখন পানির ব্যবসা রয়েছে। পারটেক্সের মাম, কোকা-কোলা কোম্পানির কিনলে, সিটি গ্রুপের জীবন, মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ, পেপসিকোর অ্যাকুয়াফিনা, প্রাণ-আরএফএলের প্রাণ, একমি গ্রুপের একমি প্রিমিয়াম ড্রিংকিং ওয়াটারসহ প্রায় ৩০টির বেশি ব্র্যান্ডের বোতলজাত পানি সারাদেশে বিক্রি হয়।

বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে বোতলজাত পানির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে পানির ব্যবসা প্রায় অর্ধেক কমে যায়। এখন আবার বাজার স্বাভাবিক হয়েছে।

বাংলাদেশে বোতলজাত পানির ব্যবসা শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে। সে সময় বোতলজাত পানির ব্যবহার বিত্তশালীদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল। পরবর্তী সময়ে বোতলজাত পানি জনগণের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পাল্টে যায়। বর্তমানে মানুষ হোটেল, রেস্তোরাঁ, অফিস, অনুষ্ঠান এবং ভ্রমণে গেলে নিয়মিত বোতলজাত পানি পান করছেন। রোগবালাই হওয়ার ভয়েও বড় সংখ্যক ক্রেতা বোতলজাত পানি পান করেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.