‘মনে হচ্ছে নতুন পৃথিবী পেলাম’

ঢাকা: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়ার দুইদিন পরে নবজাতক ফিরে পেয়েছে হিরন-শাহিনা দম্পতি। নবজাতক ফিরে পাওয়ার অনুভূতির জানতে চাইলে শাহিনা বলেন, মনে হচ্ছে নতুন পৃথিবী পেলাম।

আমার সন্তানকে কোলে নেওয়ার পরপরই আরও মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবীটাই আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। আমার স্বপ্নকে ফিরে পেয়েছি। যারা খুঁজে দিয়েছে বিশেষ করে পুলিশসহ সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ।

গত ৩১ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডে মায়ের পাশে ঘুমন্ত অবস্থায় তিনদিন বয়সের নবজাতক আব্দুল্লাহ চুরি হয়ে যায়। এরপর দুই দিনের মধ্যে রাজধানী কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে শাহবাগ থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়।

রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিকে ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া নবজাতক আব্দুল্লাহকে কোলে নিয়ে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় বসে আছে মা শাহিনা। যাকেই দেখছেন তার সঙ্গে মিষ্টি হাসি দিয়ে বলতে থাকেন, আমার কলিজা, আমার স্বপ্ন আমি পেয়েছি।

কথা হয় শিশুটির বাবা হিরন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, চুরি হওয়ার পর অনেকেই বলেছে বাচ্চা ফিরে পাব, আবার অনেকে বলেছে চুরি হলে আর ফিরে পাওয়ার আশা নাই। আমরাও ভেবে নিয়েছিলাম হয়তো সত্যি আর ফিরে পাব না। বাচ্চা ছাড়াই বাসায় চলে যেতে হবে আমাদের। শনিবার রাতে যখন হাসপাতাল থেকে আমার স্ত্রীকে পুলিশ নিয়ে গেলো বাচ্চা উদ্ধারে সহযোগিতার জন্য, তখন একটু শুনেছিলাম, বাচ্চার সন্ধান পাওয়া গেছে। কিন্তু পুরোপুরি বিশ্বাস হচ্ছিল না। রোববার ফজরের নামাজের পর যখন বাচ্চা এবং বাচ্চার মাকে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে আসল তখন আমার চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমার কি যে আনন্দ হচ্ছিল! বলার মত না।

এদিকে বাচ্চা উদ্ধারের সংবাদে ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে অনেকের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। কারণ এই চুরির ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসন থেকে সবার ওপরে অনেক চাপ বিরাজ করছিল বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।

ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, রাতে জানতে পেরেছি চুরি যাওয়া শিশুটিকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। খুব আনন্দের সংবাদ ব্যক্তিগতভাবে আমিও খুব দুঃখিত ছিলাম। কারণ কোনো মায়ের কোল খালি হোক এটা কেউ চায় না।

তিনি বলেন, আমি আবারও বলছি চুরি হওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যতরকম সহযোগিতা করা দরকার সব রকম সহযোগিতা আমাদের হাসপাতাল থেকে করা হয়েছে।

এদিকে রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হারুন অর রশিদ বলেন, চুরি যাওয়ার ঘটনায় নুসরাত শম্পা নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনি নবজাতকটি হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এই শম্পাও হাসপাতালে একটি সন্তান জন্ম দিয়েছেন। ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের চুরি যাওয়া নবজাতকটি পাশের বিছানায় ছিলেন তিনি। হিরন-শাহিনা দম্পতি তাদের সন্তান চুরির বিষয়ে প্রথম থেকেই তাকে সন্দেহ করেছিলেন। পুরো বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৪/০৯/২০২৩    

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.