এইমাত্র পাওয়া

পাঠ বুঝতে হাঁসফাঁস, মূল্যায়নে অসন্তোষ

নিউজ ডেস্ক।। আমাদের সময়

রাজধানীর নামকরা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণির স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিষয়ের শিক্ষক ক্লাসের সব শিক্ষার্থীকে কিছু বাড়ির কাজ দিয়েছেন। শাহীনুর সুলতানা নামে এক গৃহিণীর সন্তানকে বলা হয়েছে নুডলস রান্না করে নিয়ে যেতে। খাবারের স্বাদের ভিত্তিতে দেওয়া হবে নম্বর। তবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কীভাবে হবে তা স্পষ্ট নয় এই অভিভাবকের কাছে।

এই অভিভাবক বলেন, নতুন বইগুলোতে যখন রান্নাবান্না সম্পর্কে দেওয়া ছিল তখন অনেকে বলেছেন এগুলো থেকে তারা জীবনমুখী শিক্ষা পাবে, রান্না শিখবে ইত্যাদি। কিন্তু শিক্ষকের নির্দেশনা অনুযায়ী আসলে কি তারা রান্না শিখেছে? নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীরা রান্না করে নেবে, নাকি এই দায়িত্ব মায়েদের ঘাড়ের উপর পড়বে?

চলতি বছর দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ক্লাসেও একই কারিকুলাম চালু হবে। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৮ মাস অতিবাহিত হতে চললেও নতুন পদ্ধতির বই ও ব্যবহারিক বিভিন্ন কাজের সঙ্গে এখনো খাপ খাওয়াতে পারছেন না শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে কিছুদিন আগে শেষ হয়েছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অর্ধবার্ষিক মূল্যায়ন। নতুন কারিকুলাম সম্পর্কে এখনো যথাযথ অভিজ্ঞতা না থাকায় দেশের একেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একেকরকমভাবে চলছে শিক্ষার্থীদের হোকওয়ার্ক ও গ্রুপ ওয়ার্ক। এতে বিভ্রান্তি ও ভোগান্তিতে পড়ছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে নতুন কারিকুলামের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত

হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও তাদের শ্রেণি কার্যক্রম তদারকি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মতিঝিলের একটি স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ইংরেজি ভার্সনের ছাত্রদের অ্যাসাইনমেন্ট ছিল ৭ জন করে এক একটা গ্রুপের ছাত্রদের ভাত-মাছ-তরকারি-আলুভর্তাসহ ৭ ধরনের খাবার বাসা থেকে রান্না করে ক্লাসে নিয়ে যাওয়া। এই ক্লাসের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শহিদুল ইসলাম জানান, সেই খাবার টিচাররা মিলে খাবে, আর বাচ্চাদের মূল্যায়ন হবে। এভাবে বাচ্চার মায়েদের রান্না করা খাবারের মাধ্যমে ছাত্রদের মূল্যায়ন কীভাবে নির্ভর করে?

নতুন কারিকুলামের পাঠ্যবইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের যে হোম ও গ্রুপ ওয়ার্ক দিচ্ছেন, তা ঠিকমতো বুঝতে না পারায় যে যার মতো ওয়ার্ক করে নিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ক্লাসের বাইরে গিয়ে গ্রুপের সদস্যরা সবাই মিলে ওয়ার্ক নিয়েও জটিলতায় পড়ছে। কারণ সন্তানদের গ্রুপ ওয়ার্কের জন্য সময় ও স্থান নির্ধারণ এবং তাদের সঙ্গে সময় দিতে বিপাকে পড়ছেন অভিভাবকরা। অনেকে আবার কোচিংয়ের শিক্ষকদের মাধ্যমে এসব কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। তাছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো গাইডলাইন না থাকায় ভালো মূল্যায়নের আশায় টাকা খরচের প্রতিযোগিতা লেগে গেছে।

শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকার কারণেই মূলত এ পরিস্থিতি হচ্ছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ ড. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, নতুন কারিকুলাম বিষয়ে যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে তা মোটেও যথেষ্ট নয়। এ বিষয়ে শিক্ষকদের অনেকেই অন্ধকারে। তারা ক্লাসে ঠিকমতো পড়াতে ও বুঝাতে পারছেন না।

অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন কারিকুলাম কীভাবে পড়ানো হচ্ছে, তা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমে তদারকি করা প্রয়োজন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) গাইডলাইন অনুযায়ী যাতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন কারিকুলাম পড়ানো হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন তারা।

এনসিটিবি কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন, নতুন কারিকুলাম নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে ক্রমান্বয়ে সবাই বিষয়টি আয়ত্ত করে ফেলবে বলে মনে করছেন তারা। কর্মকর্তাদের যুক্তি, নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা থেকে বের হয়ে হাতে-কলমে শিখতে পারবে।

মুখস্থ বিদ্যা দিয়ে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, যে ভবিষ্যতের জন্য আমরা শিক্ষার্থীদের তৈরি করছি সেই ভবিষ্যতে মূল দক্ষতা হবে শিখতে পারার দক্ষতা। তিনি বলেন, শিক্ষার রূপান্তর ঘটানোর জন্য আমরা নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে এসেছি। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতি নতুনভাবে করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শ্রেণিতে এই নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা একজন শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।আমাদের সময়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.