শিক্ষাবার্তা ক্যারিয়ার ডেস্ক, ঢাকাঃ চাকরিপ্রার্থীদের সাধারণত কাছাকাছি সময়ে একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। একাধিক চাকরির প্রস্তুতি কিভাবে নেওয়া যাবে এ সম্পর্কে অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েন। তাই এক সঙ্গে একাধিক চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো।
একসঙ্গে একাধিক চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে আপনাকে যা করতে হবে সেগুলো হলো-
- নিজের পড়াশোনা সম্পূর্ণভাবে গুছিয়ে নেওয়া
- চাকরির পরীক্ষায় আসতে পারে এমন বিষয়বস্তু চিহ্নিত করা
- মৌলিক জ্ঞান অর্থাৎ বেসিক নলেজ বাড়ানো এবং মৌলিক জ্ঞান বাড়ানোর জন্য নতুনত্ব উপায় অবলম্বন
- পূর্ববর্তী চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন অনুসরণ
- চাকরির পরীক্ষার সাজেশনগুলো খুঁজে বের করা এবং সময় ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে একেক চাকরির পরীক্ষার জন্য একেক বিষয়বস্তু সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা।
একসঙ্গে একাধিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চাইলে ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি গ্রহণ করুন, রুটিন তৈরি করুন, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করুন, যোগাযোগ ও খোঁজ-খবর রাখুন, সাম্প্রতিক বিষয়ে মনোযোগী হোন। কেননা আমাদের দেশে সম্প্রতি এমন অনেক কিছুর পরিবর্তন ঘটছে যেটা চাকরির পরীক্ষায় আসার মতো। সুতরাং চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে চাইলে এবং কমন পেতে চাইলে অনেক পড়তে হবে। মূল কথা পড়ার কোনো বিকল্প নেই।
চাকরির প্রস্তুতি
শূন্য থেকে আপনি যদি চাকরির প্রস্তুতি নিতে চান তাহলে প্রথমত আপনার আত্মবিশ্বাস দৃঢ় রাখতে হবে। কেননা শূন্য থেকে কোনো কাজ করা খুবই কঠিন আর প্রথমবারের মতো চাকরি খোঁজা এবং কোনো চাকরিতে পরীক্ষা দেয়া আরও বেশি কঠিন। তবে হ্যাঁ চাকরির প্রস্তুতি ভালোভাবে নিতে চাইলে ধারাবাহিকভাবে আপনার যে কাজগুলো করতে হবে সেগুলো হলো- সিলেবাস সংগ্রহ করা, সিলেবাস কমপ্লিট করা এবং ব্যাসিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা অর্জন, আপনার দক্ষতাকে আরও বেশি দৃঢ় করার প্রচেষ্টা করা, আপনার কাজের ওপর নির্ভর করে নিজের মতো করে একটি নোট তৈরি করা, শূন্য থেকে চাকরির প্রস্তুতির জন্য অনলাইনের সাহায্য নেওয়া।
ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়াগুলো অবলম্বন করা হলে চাকরির পরীক্ষার জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হবেন। কেননা একেক চাকরির পরীক্ষায় একেক রকম সিলেবাস থাকে, যেটা আপনি কিছুটা এনালাইসিস করলেই বুঝতে পারবেন। আর সেই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজনীয়তাও অপরিসীম। কেননা আমাদের মনোবল যদি দৃঢ় না থাকে তাহলে আমরা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি নার্ভাস হয়ে পড়ি। এতে করে চাকরির পরীক্ষা বেশ খারাপ হয়।
সরকারি চাকরির প্রস্তুতি
বর্তমান সময়ে সরকারি চাকরি পাওয়া যেন সোনার হরিণ। আর আপনি যদি সরকারি চাকরি পেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার ভালো প্রস্তুতি থাকতেই হবে। একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় বাংলাদেশের অধিকাংশ চাকরিপ্রার্থীরা ইংরেজি এবং গণিতে বেশি দুর্বল। আর তাই সরকারি বা অন্যান্য চাকরির প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজি এবং গণিতের ব্যাসিক সম্পর্কে এ টু জেড জানতে হবে।
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরির প্রস্তুতি
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে আপনি যে সকল পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন তা হলো- ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ব্যক্তিগত সহকারী, ক্যাশিয়ার, অফিস সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, সাঁটলিপিকার কাম-কম্পিউটার অপারেটর, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর, হিসাবরক্ষক, হিসাব সহকারী প্রভৃতি।
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদসমূহে যদি আপনি চাকরির জন্য আবেদন করেন তাহলে পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল পেতে বাংলার যে বিষয়সমূহ সম্পর্কে জেনে নিবেন সেগুলো হলো-
এক কথায় প্রকাশ
প্রকৃতি ও প্রত্যয়
কবি কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্রসহ জনপ্রিয় কবি-সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম ও জীবনী
অনুবাদ, বাগধারা, বানানরীতি
সমার্থক শব্দ, বিপরীত শব্দ, ধ্বনি, বর্ণ, সন্ধি, সমাস, কারক সম্পর্কে বিস্তারিত।
অপরদিকে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অর্থাৎ সাধারণ জ্ঞানের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে চাইলে যে বিষয়বস্তু সম্পর্কে জেনে নিবেন সেগুলো হলো-
৫২-এর ভাষা আন্দোলন
ভৌগোলিক উপনাম
বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট ভবনের নাম
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা
নদ-নদী
দিবস
৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ
মেগা প্রকল্প
বিভিন্ন দেশ
রাজধানী ও মুদ্রা
পরিসংখ্যান (জনশুমারি, বাজেট)
উপজাতি
খেলাধুলা ইত্যাদি।
পাশাপাশি গণিতে ভালো করার জন্য ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে দশম শ্রেণি পর্যন্ত যে অংকগুলো রয়েছে সেগুলো দেখতে হবে ভালো করে। কম্পিউটার বিষয়ক ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য টাইপিং এ আপনাকে এক্সপার্ট হতে হবে। কেননা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদের পরীক্ষাগুলোতে কম্পিউটার ব্যবহারিক পরীক্ষায় বিশ মিনিটে আপনি কতগুলো শব্দ টাইপ করতে পারবেন তা গণনা করে যাচাই-বাছাই করা হয়।
চাকরির পরীক্ষায় সিলেক্টেড না হওয়ার কারণ
চাকরির পরীক্ষায় করা সাধারণ কিছু ভুল আমাদের চাকরি হওয়ার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই এ পর্যায়ে চাকরির পরীক্ষায় সিলেক্ট না হওয়ার কয়েকটি কারণ উল্লেখ করব যেগুলো প্রত্যেকেরই মনে রাখা জরুরি। এগুলো হলো- অতিরিক্ত টেনশনের কারণে পরীক্ষার উত্তরপত্রে ভুল উত্তর করা, একাধিক চাকরির প্রস্তুতি নিতে গিয়ে একটা পরীক্ষার জন্যও ভালো প্রিপারেশন না নেওয়া, চাকরির পরীক্ষাকে অনেক কঠিন মনে করা এবং অতিরিক্ত নার্ভাস হয়ে পড়া, পরীক্ষার হলে গিয়ে অন্যের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়ার আশা করা, সবশেষে পরীক্ষার জন্য ভালো প্রস্তুতি না নেওয়া।
মূল কথা আপনি নিজেকে আপনার পছন্দসই চাকরির জন্য যথোপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলুন এবং এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করুন যে আপনি ওই চাকরির পরীক্ষাতে অবশ্যই টিকে যাবেন এবং আপনার চাকরিটি হবেই। বারবার পড়ুন, জ্ঞান অর্জন করুন ওই চাকরির জন্য নিজেকে সেরা হিসেবে গড়ে তুলুন। আপনার চাকরি সুনিশ্চিত।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৭/০৮/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
