রংপুরঃ জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাতিহাট এলাকায় অনেক শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আটকা পড়েছেন দাদনের জালে। দাদনের জালে আটকা পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অনেকে। কেউবা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউবা পালিয়ে গেছেন গ্রাম ছেড়ে।
জানা গেছে, উপজেলার হয়বতপুর গ্রামের জনৈক ইটভাটা ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ২০২২ সালে এলাকার এক দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণ নেন। ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি হিসেবে দিয়েছিলেন দু’টি ফাঁকা চেকের পাতা। বছরখানেকের মধ্যে সুদাসলে ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি। ফেরত চান ওই ফাঁকা চেকের পাতা দুটো। কিন্তু চেকগুলো দিতে অস্বীকৃতি জানায় ওই দাদন ব্যবসায়ী। একপর্যায়ে কিছুদিন পর ৯০ লাখ টাকার মামলা করার হুমকি দেয় ওই দাদন ব্যবসায়ী। নজরুল ইসলাম ফাঁকা চেক ফেরতের বিষয়ে রংপুর আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের পরিপেক্ষিতে বৈরাতিহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম অভিযান চালায় দাদন ব্যবসায়ী বেলাল হোসেনের বাড়িতে। এ সময় পুলিশ দু’টি ফাঁকা চেক উদ্ধার করে। পরে ওই চেক দুটো দাদন ব্যবসায়ী বেলাল হোসেনকে ফেরত দেয় পুলিশ। তেমনি আরেকজন রৈবাতিহাটের ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম হোসেন। টিন, রড, সিমেন্টের ব্যবসা করছেন প্রায় ৩০ বছর ধরে। ২০২০ সালে ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিলে ভগবতিপুর গ্রামের বেলাল হোসেন নামে এক দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি। বিপরীতে ওই দাদন ব্যবসায়ী নিয়েছিল মোয়াজ্জেম হোসেনের একটি ফাঁকা চেক। নিয়মানুযায়ী ওই বছর ব্যাংকের মাধ্যমে তিনি আট লাখ ও তিন লাখ অর্থাৎ দু’দফায় ১১ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। তারপরও মোয়াজ্জেম হোসেনের ওই ফাঁকা চেক দিয়ে ৮০ লাখ টাকার ব্যাংক ডিজওনার মামলা করেছেন দাদন ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দাদন ব্যবসায়ী বেলাল হোসেনের কাছে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এলাকার অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ। তারা সুদাসলে টাকা পরিশোধ করেও ফাঁকা চেক ফেরত চেয়ে মামলা ও হামলার শিকার হচ্ছেন। এমনি একজন জামালপুর ফরিদা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোবাশ্বের হোসেন। তিনি দাদন ব্যবসায়ী বেলাল হোসেনের বড় ভাই আইনজীবী মোস্তাব সোহরওয়ার্দীর শ্যালক টিটুল মিয়ার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এক বছরের মধ্যে প্রায় ৪১ হাজার টাকা পরিশোধ করেন শিক্ষক মোবাশ্বের হোসেন। তবুও ফাঁকা চেক দিয়ে উকিল নোটিশ পাঠায় দাদন ব্যবসায়ীরা। পরে ওই আইনজীবীর বাসায় আরো দেড় লাখ টাকা নেয়া হয়। তারপরও আদালতে মামলা করে ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন দাদন ব্যবসায়ী।
জানা গেছে, মির্জাপুর ইউনিয়নের ভগবতিপুর গ্রামের মৃত সোলায়মান মণ্ডলের ছেলে বেলাল হোসেন। পৈতৃক সূত্রে কিছু জমি পেয়েছেন, সেগুলোতে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রায় ১০ বছর ধরে দাদন ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছেন তিনি। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ফাঁকা চেক বন্ধক নিয়ে দাদনে ঋণ দেন তিনি। এভাবে স্থানীয়দের বেশ কিছু জমি হস্তগত করেছেন। সেগুলো নিয়েও রয়েছে নানা জটিলতা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ সর্দার বলেন, বেলাল হোসেন সুদের কারবার করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে একের পর এক ফাঁসিয়ে যাচ্ছেন। সে ফাঁকা চেক দিয়ে একেকজনের নামে লাখ লাখ টাকা মামলা ও হামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সে আমাকে যে টাকা দিয়েছিল, প্রায় তার দ্বিগুণ টাকা পরিশোধ করেছি। তারপরও বেলাল হোসেন আমার ফাঁকা চেক দিয়ে ৮০ লাখ টাকা দাবি করছে।
আরেক ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বলেন, টাকা দেয়ার পরও দাদন ব্যবসায়ী ফাঁকা চেক দিয়ে আমার কাছে ৯০ লাখ টাকা দাবি করছে। মামলা ও হামলার ভয় দেখাচ্ছে।
অভিযুক্ত বেলাল হোসেন বলেন, আমি অনেক ব্যবসায়ীকে মালামাল কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলাম। সবার ফাঁকা চেক আমার কাছে গচ্ছিত আছে। আর মানুষের সাথে লেনদেন করা যাবে না। মোয়াজ্জেম হোসেনকে ৮০ লাখ ও নজরুল ইসলামকে ৯০ লাখ টাকা দিয়েছি। তবে তার কোটি টাকার আয়ের উৎস সম্পকে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৩/০৮/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
