প্রণোদনার পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাৎ প্রধান শিক্ষকের

কুড়িগ্রামঃ জেলার চিলমারীর মুদাফৎথানা উচ্চ বিদ্যালয়ের বরাদ্দের সরকারি প্রণোদনা পুরস্কারের পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক তাসবিরুল হক রুমি ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের বিরুদ্ধে। শুধু অর্থ আত্মসাতই নয় অভিযোগ রয়েছে করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের ফরমপূরণের টাকা ফেরৎ না দিয়ে সেই টাকাও আত্মসাৎ করেছেন। এমন অভিযোগ এর আগে জেলা প্রশাসক, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ স্থানীয় প্রশাসনের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রণোদনার টাকা সঠিকভাবে ব্যয় হয়েছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী সিদরাতুল মুনতাহা বলেন, ২৮০০ টাকা দিয়ে ফরমপূরণ করেছিলাম, সেই সময় রশিদ চেয়েছিলাম কিন্তু রশিদ দেয়নি। এরপর করোনার জন্য আমাদের তিনটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ফরম পূরণের টাকা ফেরত দিতে নিদের্শনা ছিল কিন্তু সেই টাকা দেয়নি। এ নিয়ে কয়েকদিন থেকে স্কুলে হট্টগোল হলে আমরা টাকা ফেরত চাইতে আসলে আমাকে ৩০০ টাকা দিয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে সেই টাকা ফেরত দেয়নি এখনো বলে নাহিদ ইসলামের মা নুরজাহান বলেন, সেই সময় এক টাকাও কম নেয়নি। পরে যখন টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছিল কিন্তু প্রধান শিক্ষক সেই টাকা এখন পর্যন্ত দেয়নি। শুনেছি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সামান্য টাকা দিয়েছে ফেরত। ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলকালীন সময়ে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া তিনটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বাতিল পরীক্ষাগুলোর ফরমপূরণের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু সেই টাকা এখন পর্যন্ত ফেরত দেয়নি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক তসবিরুল হক রুমি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মুদাফৎথানা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে গঠন করা হয়েছে। যেখানে বার বার এক ব্যক্তিকে কমিটির সভাপতি পদে রাখা হয়েছে প্রধান শিক্ষকের সুবিধার্থে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি প্রণোদনার ৫ লাখ টাকা প্রধান শিক্ষক তাসবিরুল হক রুমি তার ইচ্ছামতোভাবে বিতরণ দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। সেই সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানটির জমিদাতা, ডোনার ও সহযোগী অর্থ প্রদানকারীদের ম্যানেজিং কমিটি থেকে বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ওই এলাকার স্থানীয় ও অভিভাবক জিয়াউল হক বকুল বলেন, বিদ্যালয়ে প্রণোদনার টাকা কোন খাতে ব্যয় করেছেন কেউ তা জানে না। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের এই টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে টাকা দেওয়া হয়নি। এর আগে এডিপি থেকে বিদ্যালয় সংস্কার করা হয়েছিল। এখন আবার সেই কাজ ধরিয়ে টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন।

প্রধান শিক্ষক তাসবিরুল হক রুমি ছুটিতে থাকায় সহকারী প্রধান শিক্ষক লালভানু বেগম জানান, প্রণোদনার টাকা সঠিক ভাবেই বিতরণ করা হয়েছিল। বিতরণের আগে ক্লাস রুমে নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছিল। এখন ব্যয় কিভাবে কোথায় হয়েছে সেটা প্রধান শিক্ষক আসলে জানা যাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাহের আলী বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। এখন প্রণোদনার টাকা কোন খাতে কিভাবে ব্যয় হয়েছে সেটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর করোনাকালীন পরীক্ষার টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি বলতে পারবেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.