নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সরকারি ও বেসরকারি বৈষম্য দূরিকরণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ১১ জুলাই থেকে টানা আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা। গত রবিবার থেকে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে প্রেসক্লাবে হাজিরা দেওয়া কর্মসূচী চালু করে শিক্ষকরা। কার্যত সারাদেশের এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অচল অবস্থা বিরাজমান। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার শিক্ষকদের সঙ্গে মাউশির কোনো ফলপ্রসু আলোচনা না হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতারা।
শিক্ষকদের আন্দোলনের ফলে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিতে এবার ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। যদিও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এই নির্দেশনায় আন্দোলনের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেনি মাউশি।
মঙ্গলবার মাউশির পরিচালক অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করা যাচ্ছে যে নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২২ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ২০২৩ সাল থেকে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে নতুন টিচিং-লার্নিং এপ্রোচে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন নির্ভর করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন যেমন- প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবস্থাপনা কমিটি/গভর্নিং বড়ি, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সকলের কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটি/গভর্নিং বডি। দৈনন্দিন শিখন-শেখানো ও মূল্যায়ন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে শিক্ষকদের ও তা পর্যবেক্ষণে প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিয়মিত উপস্থিতি অপরিহার্য। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কোনো কোনো শিক্ষক নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করছেন। পাশাপাশি এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডিরও কোনোরূপ নজরদারী না থাকায় নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া কোভিড-১৯ অভিমারির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়নি। ফলে এখন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস নেয়াসহ গভীর নজর দেয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এ কার্যক্রমসহ শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ ক্ষুন্ন করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতে সংশ্লিষ্টদের নিম্নরূপ নির্দেশনা প্রতিপালনে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো-
- প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি সক্রিয় তদারকি করবে;
- শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠান প্রধান কার্যকর ভূমিকা নেবেন;
- কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে গৃহীত বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর রাখা;
- সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে কোনরূপ মিথ্যা ও উস্কানীমূলক প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করা;
- শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে নিরবছিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা;
- উল্লেখিত নির্দেশনাসমূহ প্রতিপালনে কোনোরূপ ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বড়ি, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমান মিয়া শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, যত নির্দেশনাই আসুক, বাঁধা বিপত্তি আসুক না কেন আমরা জাতীয়করণের সূর্নিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। স্কুলের তালা খুলবে না।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৮/০৭/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

