এইমাত্র পাওয়া

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ১০ সহকারী শিক্ষকের

চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকারি শিক্ষকরা নানা অভিযোগ তুলেছেন। মানসিক নির্যাতন , অসদাচরণসহ বিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছেন একই বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষক।

তবে প্রধান শিক্ষক মোহা. সাবিরুদ্দিন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯ জন শিক্ষকের মধ্যে ১০ জন সহকারি শিক্ষকের অভিযোগে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক মোহা. সাবিরুদ্দিন কর্তৃক সহকারি শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হেনস্থা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। এছাড়া চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উদযাপন শেষে সহকারি শিক্ষকগণ প্রধান শিক্ষকের নিকট উৎসব ভাতা দাবি করলে প্রধান শিক্ষক মোহা. সাবিরুদ্দিন ভাতা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে সহকারি শিক্ষকদের অশ্লীল গালিগালজ করতে করতে তাদের মারতে উদ্যত হন।

অন্যদিকে চলতি বছরের ২৩ মার্চ সকল শিক্ষক-কর্মচারীর জানুয়ারি-২২ হতে ডিসেম্বর-২২ পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভাতা ও পিএফ প্রদান করা হয়। কিন্তু পিএফের টাকা সকল শিক্ষকের ব্যাংক হিসাবে জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও প্রধান শিক্ষক পিএফের টাকা নিজের কাছে রেখে দেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের সকল আয়-ব্যয় ব্যাংক একাউন্টে জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও প্রধান শিক্ষক ক্ষমতার জেরে তা নিজের কাছে রাখেন এবং নিজ খেয়াল-খুশিমত খরচ করেন। এদিকে আয়-ব্যয় সংক্রান্ত বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করা হলেও উক্ত কমিটিকে দায়িত্ব হস্তান্তর না করে নিজের হাতে কুক্ষিগত রেখেছেন প্রধান শিক্ষক মোহা. সাবিরুদ্দিন। অপরদিকে একই বিদ্যালয়ের ৫জন সহকারি শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর চেয়ারম্যান বরাবর পৃথক একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন

। ওই অভিযোগপত্রে প্রধান শিক্ষক মোহা. সাবিরুদ্দিনের বিরুদ্ধে আয়ের খাতগুলির অনিয়ম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে। খাতগুলোর মধ্যে বিদ্যালয়ের দোকান ভাড়ার অর্থ, সেশন চার্জ ও ছাত্র বেতনের অর্থ, বাগান বিক্রির অর্থ, ধান বিক্রির অর্থ, মার্কেট নির্মাণ ও দোকান ঘর বরাদ্দে অনিয়ম, দোকান বিক্রি হতে কমিশন ও পিএফের টাকা আত্মসাৎসহ বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা. সাবিরুদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কয়েকজন শিক্ষককে অনৈতিক সুবিধা না দেয়ার জন্য তারা মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে সংবাদটি না করার জন্য তিনি আর্থিক প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তিকে দিয়েও তদবির করান তিনি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৬/০৭/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.