এইমাত্র পাওয়া

লক্ষ্য স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছে বাউবি: উপাচার্য

ঢাকাঃ  ‘বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বিউবি) গত তিন দশকে দেশের জেলা উপজেলা, গ্রামগঞ্জ এমন কী দূর্গম পাবর্ত্য অঞ্চলের নৃ-গোষ্ঠী, সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের দূর শিক্ষণের মাধ্যমে আলোকিত করতে পেরেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ফটোগ্রাফার কিংবা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আমলা থেকে শুরু করে মাঠের কৃষক-শ্রমিক সবাই এখন আমাদের শিক্ষার্থী। দেশজুড়ে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা ১ হাজার ৫৬২টি স্টাডি সেন্টার, ৮০টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র, ৮৭টি ফরম্যাল ও নন-ফরম্যাল প্রোগামসহ সব বয়সের সকল পেশার মানুষ নিয়ে বাউবি ৯ লাখ শিক্ষার্থীর বৃহৎ এক পরিবার। তিন দশকে বাউবি সক্ষম হয়েছে তার লক্ষ্যকে স্পর্শ করতে।’

শনিবার বাউবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার তার দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে উপাচার্য বাসভবনে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অভিনন্দন জ্ঞাপন ও সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ সব কথা বলেন।

সে সময় তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে বাউবির আলোকচ্ছটা। বাঙালি রেমিটেন্স যোদ্ধাদের জন্য সৌদি আরব, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালিসহ ৪টি দেশে স্টাডি সেন্টার খুলেছি। পরিকল্পনায় আছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে স্টাডি সেন্টার খোলার। এ ব্যপারে বিভিন্ন দূতাবাস, সরকারী কর্মকর্তা, প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা, প্রবাসের গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষাবিদসহ সকলের সহযোগিতা চাই। আমরা চাই, প্রবাসে অবস্থানকারী শিক্ষা বাধাগ্রস্থদের শিক্ষিত আত্মমযার্দাশীল, দক্ষ, কর্মক্ষম ও জীবনযাত্রার মান বাড়াতে; আর সে লক্ষ্যে বাউবি কোর্স ডিজাইন ও শিডিউল তৈরি করেছে। গত ২-৩ বছরে বাউবি বহিঃবাংলাদেশে তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪টি স্টাডি সেন্টার খুলতে সক্ষম হলেও বিশ্বের বাকি অন্য ৮টি ওপেন ইউনিভার্সিটি কিন্তু সে সাহস পায়নি। এখানেই আমাদের সফলতা, সার্থকতা।’

এ উপাচার্য আরও বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীকে এগিয়ে আসতে হবে। চেষ্টা করছি, তারুণ্য দীপ্ত, প্রযুক্তিক, সময়োপযোগী, গতিশীল ও সততা-শুদ্ধতার অনন্য আদর্শিক একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাউবিকে গড়ে তুলতে।’

ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক প্রফেসর ও আন্তজার্তিকভাবে একজন প্রথিতযশা ভূমিকম্পবিদ হিসেবে সুপরিচিত। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যামন্ট-ডোহার্টি আর্থ অবজারভেটরিতে গবেষণায় দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন। পাশাপাশি জার্মানি, ইংল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ভারতে ভূতত্ত্ব গবেষণায় তিনি সংযুক্ত আছেন। অতিথি বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি ২০০৩ সালে ল্যামন্ট-ডোহার্টি আর্থ অবজারভেটরির সাথে সংযুক্ত হন। তিনি বাংলা পিয়ার (এনএসএ পিয়ার প্রজেক্ট) গবেষণা দলে হিমালয়ান ও বার্মিজ ডিফরমেশন ফ্রন্টে গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরি ও ছয়টি স্থায়ী সিসমিক স্টেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি ৩০টি জিওডেটিক জিপিএস স্টেশন সিস্টেম এবং ২৭টি পোর্টেবল সিসমোগ্রাফের প্রতিষ্ঠাতা। দেশে সিডিমেন্ট সেমপল রিপোজিটরি এবং ডাটা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ জিওলজিক্যাল সোসাইটি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর দি এডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স, বাংলাদেশ সোসাইটি অব জিও ইনফরমেটিকস, ইনকর্পোরেটেড রিসার্চ ইনস্টিটিউশনস ফর সিসমোলজিসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী সংগঠনের সাথে যুক্ত।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/০৭/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.