সনদ জালিয়াতি: ১৬ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি

সাতক্ষীরাঃ জাল সনদধারী শিক্ষকের তালিকায় সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব সেলিম শিকদার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়। এসব অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযুক্তরা হলেন, সাতক্ষীরা দিবা নৈশ কলেজের ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক বিলকিছ জাহান সিদ্দিকা, মার্কেটিং বিভাগের শিল্পী রানী পাল ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানের প্রভাষক শান্তি রঞ্জন পাল, তালার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক সুচিত্রা রায়, কলারোয়া বেগম খালেদা জিয়া কলেজের ইতিহাসের প্রভাষক মোঃ আমিরুল ইসলাম, কলারোয়া সোনার বাংলা ডিগ্রি কলেজের মনো বিজ্ঞানের প্রভাষক তৌহিদুর রহমান, কলারোয়া বোয়ালিয়া মুক্তিযোদ্ধা কলেজের সমাজকল্যাণের প্রভাষক নির্মল কান্তি সরকার, বামনখালি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কম্পিউটার আবুল কাশেম।

আশাশুনির গদাইপুর জোহর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইলিয়াস হোসেন, পুইজালা বি এম আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সমাজ ঝর্না তরফদার, সাতক্ষীরা সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কাকলী দেবনাথ, আশাশুনি গোদাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফজলুর রশিদ ও সহকারী শিক্ষক কম্পিউটার নির্মল কুমার বিশ্বাস, তালার ফলেয়া চাঁদকাটি অগ্রণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক শেখ ফিরোজ আহমেদ, তালার শুভাষিনী কলেজের প্রদর্শন/কম্পিউটার শিক্ষক মো. ইয়াকুব আলী শেখ, সাতক্ষীরা শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সাচিবিক বিদ্যা মো. মনিরুজ্জামান।

সাতক্ষীরা সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গাজী শাহজাহান সিরাজ জানান, তিনিও বিষয়টি জেনেছেন। তবে অধিদপ্তর থেকে চিঠি আসলে সেই আলোকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার অজিত কুমার সরকার বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি আমরা অনলাইনে দেখেছি। আমাদেরকে এ বিষয়ে অফিসিয়ালি কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।’

উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে কর্মরত ৬৭৮ জন জাল সনদধারী শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে তাদের এমপিও বন্ধ করার এবং অবৈধভাবে এমপিও বাবদ ভোগ করা টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে।

এ ছাড়া জাল সনদধারী যেসব শিক্ষক অবসরে গেছেন তাদের অবসর সুবিধা বাতিল করতে বলেছে মন্ত্রণালয়। যারা অবসরে গেছেন বা চাকরি ছেড়েছেন তাদের টাকা অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে আদায় করতে বলা হয়েছে। আর জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের। জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে অধিদপ্তরকে বলেছে মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এসব নির্দেশনা দিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ দেশব্যাপী এক জরিপে এর সত্যতা প্রকাশ পায়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৮ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব সেলিম শিকদার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৫/০৬/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.