ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ১০ দফা দাবিতে গতকাল শনিবার সারাদেশে জেলা পর্যায়ে সমাবেশের ডাক দেয় বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতেও এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি পালনের আগে নিজেদের পছন্দমতো স্থানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে প্রশাসনের অনুমতি পাওয়া যায়নি।
তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বিএনপি যে স্থানটিতে সমাবেশ করে এর ঠিক পাশেই ছিলো এস.এস.সি পরীক্ষা কেন্দ্র।
শনিবার পরীক্ষা থাকায় এর আশে পাশে এলাকায় নিয়ম অনুসারে প্রশাসনের দেওয়া ১৪৪ ধারা জারি ছিল।
সমাবেশ চলাকালে উচ্চস্বরে মাইক বাজা ও সারাক্ষণ শ্লোগান চলতে থাকায় পরীক্ষার মনযোগে ব্যাঘাত ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চস্বরে বাজতে থাকা মাইকের শব্দ কমিয়ে দিয়ে কিছু সময়ের মধ্যেই সমস্যার সমাধান করা হয়।
এদিকে সমাবেশ চলাকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী এ জন্য দু:খ প্রকাশ করেন।
এ সময় তিনি জানান, আগে জানলে এখানে সমাবেশ করতে না করতেন। অবশ্য বিএনপি ও অংগসংগঠনের বেশিরভাগ কর্মসূচি শনিবার করা সমাবেশের স্থানেই নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। ওই স্থানের সামনেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ও নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় নামে জেলার গুরুত্বপূর্ণ দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পৌর এলাকার মৌড়াইলে জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির বাড়ির সামনে বিএনপি’র সমাবেশ চলছে।
সমাবেশের জন্য করা ছোট্ট প্যান্ডেলের সামনে ছাড়াও সড়কের মধ্যে জড়ো হয় নেতা-কর্মীরা। সমাবেশ গিয়ে ঠেকে নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে। এ সময় উচ্চস্বরে মাইক বাজাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকা শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে।
পরীক্ষা শেষে উপজেলার শালগাঁও-কালীসীমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী জুনায়েদ আহমেদ মিশান, মো. আমজাদ হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, তাদের পদার্থ বিজ্ঞানের পরীক্ষা চলছিল। সমাবেশের শব্দের কারণে পরীক্ষার মনযোগে ব্যাঘাত ঘটে।
নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মো. সাহিদুল ইসলাম জানান, পরীক্ষা শুরুর পর সমাবেশ শুরু করলে মাইক বাজতে থাকায় সমস্যা হয়। পরে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটকে জানালে তিনি মাইকের শব্দ কমানোর ব্যবস্থা করলে আর সমস্যা হয়নি।
সভা শেষে মনিরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকেদর প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য বিদেশমুখী। আমাদের চেয়ে আওয়ামী লীগ আরো বেশি বিদেশমুখী। কিছুদিন আগেও মাননীয় প্রধান কাতার, ব্রিটেন, আমেরিকা ও জাপান গিয়েছেন। আমরা এখন পর্যন্ত কেউই বিদেশ যায়নি। বিদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছেদ নয়। এখন চলছে বৈশ্বিক একতা। বর্তমান সরকার বিদেশমুখী।’
তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন জনগণ সম্পর্কিত। মানুষের কাছে যাচ্ছি। মানুষকে ডাকছি। আমাদের অন্দোলন অসিংহ, গণতন্ত্র ও জনগণের অংশগ্রহনমূলক। আমরা বিশ্বাস করি, দাবি মানতে হবে। আমাদের দাবি যৌক্তিক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ও আমাদের দাবির ব্যাপারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।’
পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে সমাবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন সভার জায়গা ঠিকমত দেয়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকের কাছে, পরীক্ষার্থী সন্তানদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। সভা করতে আসলাম কিন্তু সভা করতে দিলেন না- এর জবাব একদিন দিতে হবে।’
জনসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েদুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম এ খালেক, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহবায়ক জিল্লুর রহমান। দুপুরে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখার সময় সমাবেশস্থল অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। উপস্থিত কিছু নেতা-কর্মীকে নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতা ও ছবি তোলায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। সকালের দিকে জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা যোগ দিয়েছিলেন। সমাবেশের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৮/০৫/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
