ঠাকুরগাঁওঃ জেলার পীরগঞ্জে পড়া না পারায় সতুল কোরআন নুরে জান্নাত হাফেজিয়া মহিলা মাদ্রাসায় মুমতারি জাহান তিথি (৯) নামে এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে ব্যাপক মারধর করেছেন আল মামুন নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার সকালে শিশু তিথিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শিশুটির বাবা মুসাদ্দেক জানান, তিথি মাদ্রাসার নাজরা বিভাগে পড়ছে। শুক্রবার সকালে মাদ্রাসা থেকে ছুটি নিয়ে মেয়েকে বাড়িতে আনা হয়। পরে গোসল করানোর সময় তিথির শরীরে মারধরের চিহ্ন দেখে তার মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ নিয়ে এলাকায় হৈ চৈ পড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, শুদ্ধভাবে পড়া দিতে না পারায় তিথি সহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই মারধর করা হয়। এ কথা বাড়ির কাউকে জানালে আরও মারধর করার ভয় দেখান মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মামুন হুজুর। এতে ভয়ে তিথি কাউকে বিষয়টি জানায়নি।
স্থানীয়রা আরও জানান, ওই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও অনেক ঘটনা ঘটেছে। মাদ্রাসার মামুন হুজুর এমন ঘটনায় জরিমানাও দিয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সোয়ান জানান, শিশুটির হাতে ও পায়ে লাঠি দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন বলেন, শিশুটিকে মারধর করার বিষয়টি শিশুর পিতা আমাকে জানিয়েছেন। আমি থানায় মামলা করার কথা বলেছি।
তিথির বাবা জানান, তিনি থানায় গিয়েছিলেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আল মামুন বলেন, ‘পড়ার জন্য দুই-এক বেত দেওয়া হয়। আসলে এটা ভুল হয়ে গেছে, আর এমটা হবে না।’
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১২/০৫/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তা’য়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
