এইমাত্র পাওয়া
জামিনে বেড়িয়ে আসার পর হায়দার আলীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন দিনাজপুর বোর্ডের কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদ আলম ও সাধারণ সম্পাদক মওদুদ করিম বাবু্র মাদকসেবী কর্মচারী হারুন সহ অন্যান্য কর্মচারীরা ছবিঃ সংগৃহীত

নিজ কর্মস্থলেই হেনস্থার শিকার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের নারী কর্মচারী

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুরঃ স্বামী কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়ে মামলা দায়ের করায় নানাভাবে হেনস্থার স্বীকার হচ্ছেন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের এক নারী কর্মচারী। মামলার আসামী (স্বামী) হায়দার আলী একই বোর্ডের কর্মচারী হওয়ায় বোর্ডে নিজ কর্মস্থলে এসে হেনস্থার স্বীকার হচ্ছেন ঐ নারি।

হেনস্থার শিকার ঐ নারী হচ্ছেন জামিনা খাতুন জুঁই। আর হেনস্তকারীরা হচ্ছে ঐ নারীর স্বামীর বন্ধুরা যারা একই বোর্ডের কর্মচারী। এদের মধ্যে বোর্ডের উচ্চমান সহকারী মোঃ হারুন উর-রশিদ এবং উচ্চমান সহকারী মোঃ কামরুজ্জামান শাহীন।

জানা গেছে, হায়দার আলীর স্ত্রী জামিনা খাতুন জুঁইর নিকট ৩ লক্ষ টাকার যৌতুক দাবি করে। দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় স্বামী হায়দার আলী বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। স্থানীয় ভাবে বিষয়টি কয়েকবার মীমাংসা করার চেষ্টা করেও কোন সমাধান না হওয়ায় গত ১৬ই ফেব্রুয়ারী দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালতে স্বামী হায়দার আলীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করেন স্ত্রী জামিনা খাতুন জুই। মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে ওয়ারেন্ট ইস্যু করে গত সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে স্বামী হায়দার আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন দুপুরেই তিনি জামিনে বেড়িয়ে আসেন। জামিনে বেড়িয়ে এসেই বোর্ডের মধ্যে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন হায়দার আলী।

জামিনে বেড়িয়ে আসার পর হায়দার আলীর সিন্ডিকেটের সহকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় হারুন অর রশিদ বিচারাধীন একটি মামলাকে মিথ্যা এবং হয়রানী মূলক উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন।

ভুক্তিভুগী ঐ নারী বলেন, বোর্ডে যখন আমি আসি তখন আমার স্বামী হায়দার আলীর বন্ধু মোঃ হারুন উর-রশিদ এবং কামরুজ্জামান সব সময়ই আমাকে গালাগালি করতে থাকে। মামলা না তুললে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। নানা ভয়ভীতি দেখান। উপায় না পেয়ে আমি থানায় নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করেছি।

সাধারণ ডায়েরি তিনি উল্লেখ করেন,  আমি মোছাঃ জার্মিনা খাতুন জুঁই (৩১), পিতা-মোঃ জমির উদ্দিন, সাং- নয়নপুর, থানা-কোতয়ালী, জেলা-দিনাজপুর অত্র থানায় হাজির হইয়া বিবাদী ১। মোঃ হায়দার আলী (৪০), ২। মোঃ জহুরুল ইসলাম (৩৫), উভয় পিতা-মোঃ জাবেদ আলী, ৩। মোঃ কামরুজ্জামান শাহীন (৪৫), উচ্চমান সহকারী দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড, সাং-বকুলতলা মোড়, ৪। মোঃ হারুন উর-রশিদ (৪৫), উচ্চমান সহকারী দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড, পিতা-মোঃ নাছির উদ্দিন, সাং-বালুবাড়ী, সর্ব থানা-কোতয়ালী, জেলা- দিনাজপুর গনের বিরুদ্ধে এই মর্মে সাধারণ ডায়েরী করিতেছি যে, আমি দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, দিনাজপুর এর রেকর্ড সাপ্লাইয়ার (কম্পিউটার অপারেটর বিদ্যালয় শাখা) পদে কর্মরত। উপরোক্ত ১নং বিবাদী আমার স্বামী হইতেছে ও ২নং বিবাদী দেবর এবং অপরাপর বিবাদীদ্বয় আমার কলিক হইতেছে। ১নং বিবাদীর সহিত আমার পারিবারিক ভাবে বনিবনাদ না হইলে আমি বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা করি । যাহার মামলা নং-২১২/২৩, উক্ত মামলায় ১নং বিবাদী জামিনে মুক্তি পাইয়া ১নং বিবাদীর হুকুমে ও নেতৃত্বে অপরাপর বিবাদীগনেরা আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি হুমকি সহ মামলা তুলিয়া নেওয়ার হুমকি প্রদান করিয়া আসিতেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইং-০৫/০৪/২০২৩ তারিখ সকাল অনুমান ০৯.৩০ ঘটিকার সময় আমি আমার অফিসে উপস্থিত হইলে উপরোক্ত ৩ ও ৪নং বিবাদীদ্বয় আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ সহ প্রাণনাশের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি হুমকি প্রদান করে। তখন আমি উক্ত বিবাদীদের অন্যায় কথার মৌখিক প্রতিবাদ করিতে গেলে বিবাদীদ্বয় আমাকে শ্লীলতাহানী সহ বড় ধরনের ক্ষতি করিবে বলিয়া বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি হুমকি প্রদান করে। তখন উপস্থিত অফিস সহায়ক সাক্ষী ১। মোঃ আনিছুর রহমান, নিম্নমান সহকারী ২। মোছাঃ আল হামরার পারভীন প্রিয়া সহ আরো অনেকে আগাইয়া আসিয়া উপরোক্ত ঘটনাটি দেখিয়াছেন এবং শুনিয়াছেন। উক্ত বিবাদীগনেরা যে কোন সময় আমার বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাইতে পারে বলে আশংকা করিতেছি। উক্ত ঘটনার বিষয়টি পারিবারিক ভাবে আলোচনা করিয়া সাধারন ডায়েরী করিতে কিছুটা বিলম্ব হইল। উল্লেখ্য যে ৩নং বিবাদী, ১নং বিবাদী জামিনে মুক্তিপাইয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক সহ বিভিন্ন ইন্টারনেটে বিচারাধীন মামলার সম্পর্কে মিথ্যা অপপ্রচার ও আসামীকে সহায়তা করিয়া আসিতেছে এবং আমাকে বিভিন্ন কমেন্টের মাধ্যমে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করিয়া আসিতেছে।

আরও পড়ুনঃ নারী নির্যাতন মামলায় রাতে গ্রেফতার দুপুরে জামিন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কামারুজ্জামান ঐ নারীকে হেনস্থা করে উলটো তার বিরুদ্ধেই বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, অত্র বোর্ডের বিদ্যালয় শাখায় কর্মরত জামিনা খাতুন জুঁই (রেকর্ড-সাপ্লাইয়ার) তার পারিবারিক বিষয় নিয়ে অফিসে সবসময় অকথ্য ভাষায় অফিসের সহকর্মীদের গালিগালাজ করে, অফিসের স্বাভাবিক পরিবেশ বিষিয়ে তুলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৫/০৪/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে সকাল আনুমানিক ১১.০০ হতে ১১.৩০ মিনিট অফিস চলাকালিন সময় একই ঘটনার পূর্ণরাবৃত্তি করিলে এক পর্যায়ে কামরুজ্জামান শাহীন সহ আমরা কয়েক জন তাকে শান্ত করিতে গেলে ক্ষিপ্ত হইয়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকে এবং আমাদের কে দেখে নিবে বলে সে থানায় গিয়ে আমাদের নামে একটি মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ ডায়েরী করেন যা সবাই অবগত। আমরা মনে করি যে, আমাদের অফিস চলাকালীন সময় সকলের অভিভাবক চেয়ারম্যান মহোদয় ও শাখা প্রধানরা কিন্তু সে অফিস কে ডিঙ্গেয়ে থানায় যাওয়া চাকুরী বিধিমালা ও অফিস পরিচালনা পরিপন্থি হয়েছে বলে আমাদেও বিশ্বাস যাহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আরো উল্লেখ্য যে, এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে অশালিন ভাষায় বক্তব্য ও প্রচারণা চালায় যাহা আমাদের সহ অফিসের সামাজিক সম্মান ও সুনাম হেয় প্রতিপণ্য হয়েছে। যাহা অপূরণীয় ক্ষতি।

তবে বোর্ডের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এরা একই সিন্ডিকেটের। মেয়েটি অসহায় তাকে সব সময় ভয়ভীতি দেখায় মামলা তুলে নিতে না হলে গুম করে ফেলব। পরকীয়া আছে সে খারাপ যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না এমন কথাবার্তাও বলে।

এ বিষয়ে বোর্ডের কোন কর্মকর্তাই কথা বলতে চাননি। সবাই চেয়ারম্যান স্যার বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন বলে এড়িয়ে যান।

তবে এই বিষয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর কামরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ

 

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৩/০৪/২০২৩       

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.