এইমাত্র পাওয়া

মাদকাসক্ত কর্মচারী হারুনকে শোকজ করেই দায় শেষ দিনাজপুর বোর্ডের

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুরঃ গত ১৫ জানুয়ারি “চা খরচ না পেলে শিক্ষকদের ফাইল ধরেন না শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী” শিরোনামে,  ২৪ জানুয়ারি “দিনাজপুরের সেই মাদকসেবী কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি শিক্ষা বোর্ড” শিরোনামে এবং সর্বশেষ গত ৪ ফেব্রুয়ারি “শুধু স্পট পরিবর্তন, থামেনি কর্মচারি হারুনের মাদক সেবন” শিরোনামে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মান সহকারী হারুনের বিরুদ্ধে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশ করা হলেও কোন ধরণের ব্যবস্থা নেয়নি দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড। শুধু মাত্র শোকজ করেই দায়িত্ব শেষ করেছেন বোর্ড প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ মাদকাশক্ত আর্থিক অনিয়মে জড়িত কর্মচারী হারুনকে শোকজ করে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোঃ জহির উদ্দিন।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের কৈফয়ত তলব করে শোকজ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত মাদক সেবন এবং মাদক সেবনের ভিডিও ক্লিপ ও আর্থিক অনিয়ম বিষয়ক সংবাদটি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যা বোর্ডের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যেহেতু উক্ত মাদক সেবন ও আর্থিক অনিয়ম সরকারি চাকরি বিধি ও আইন পরিপন্থী এবং দণ্ডনীয় অপরাধ সেহেতু উক্ত পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার নিজস্ব অবস্থান এবং সুস্পষ্ট মতামত লিখিত আকারে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিবের দপ্তরে জমা দেওয়ার জন্য বলা হলো।

বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, মাদকাশক্ত কর্মচারী হারুন শোকজ চিঠির জবাব দিয়েছে। জবাবে তিনি লিখেছেন, মাদকের সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। যে ভিডিও’র কথা বলে হয়েছে সেখানে আমি নেই। আমার বন্ধুরা (অন্যান্য মাদকসেবীরা) শত্রুতা করে তা এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে। আর্থিক অনিয়মের সাথেও সে জড়িত নই বলে সে জানিয়েছে।

গত ১৫ জানুয়ার, ২০২৩ শিক্ষাবার্তা’র সাথে আলাপকালে মাদক সেবনের ভিডিও প্রসঙ্গে  হারুন অর রশিদ মাদক সেবনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেছিলেন, ভিডিওটা সঠিক তবে অফিস চলাকালীন সময়ে। আমার বন্ধুরা শত্রুতা করে এমন ভিডিও করেছে। (সেই অডিও রেকর্ড শিক্ষাবার্তা’র হাতে রয়েছে।

কি ব্যবস্থা নিলেন জানতে চাইলেন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোঃ জহির উদ্দিন শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, বিষয়টি চেয়ারম্যান স্যার জানেন। এ বিষয়ে আমি কোন মতামত দিতে পারব না। তিনি শোকজের জবাব দিয়েছে এতটুকুই বলতে পারব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ কামরুল ইসলামশিক্ষাবার্তা’কে বলেন, তাকে শোকজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে। ব্যবস্থা নেওয়ার কিছু “ফরমালিটি মেইন্টেইন” করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (নিরীক্ষা ও আইন)  মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, ঐ কর্মচারীকে শোকজ করা হয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আমি দিয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবেন। শোকজের জবাব দিয়েছে কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি বিষয়টি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৫/০৪/২০২৩      

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.