শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকাঃ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। কিন্তু ১৩ বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও কার্যকর যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাগাতার ঘটে চলেছে যৌন হয়রানির ঘটনা।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন জড়িত থাকে ঘটনাগুলোতে। ফলে অনেক সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না বলে অভিযোগ করেছেন নারীপক্ষ আয়োজিত মতবিনিময় সভার বক্তারা। বক্তারা বলেন, গত ডিসেম্বরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭ দিনের মধ্যে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়ে বলে যে প্রতিষ্ঠান কমিটি গঠন করবে না, সে প্রতিষ্ঠান আদালত অবমাননা করবে।
বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডির নাসরীন হক সভাকক্ষে ‘যৌন হয়রানিমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়তে করণীয়’ শীর্ষক এ সভাটি গ্লোবাল ফান্ড ফর উইমেন (চ্যাম্পিয়নস ফর ইক্যুইলিটি) এর সহযোগিতায় নারীপক্ষ আয়োজন করে। নারীকে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অধিকারসম্পন্ন নাগরিক ও মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ১৯৮৩ সাল থেকে নারীপক্ষ কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘নতুন প্রজন্মের নারীর নেতৃত্ব বিকাশ’ শীর্ষক প্রকল্পটি সহযোগী নারী সংগঠন এবং স্থানীয় তরুণদের সম্পৃক্ত করে ছয়টি জেলার (মানিকগঞ্জ, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ ও সিলেট) ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠন ও সক্রিয়করণ এবং নারীর উপর সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করছে।
সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) কামরুন নাহার, পিএসটিসির শিরোপা কুলসুম, ঝিনাইদহর আলহেরা ইন্সটিটিউটের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা কামাল, ঝিনাইদহের সমাজকর্মী শরীফা খাতুন, যশোরের সংকল্প বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম খান বুলবুল, বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির জান্নাতুল তাজরীন, গাইবান্ধার মাজেদা খাতুন কল্পনা, নিশাত তানজিম মুন, এফপিএবি এর হোসনে জাহান, ডিএসকে এর নিগার সুলতানা নীপা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ‘নতুন প্রজন্মের নারীর নেৃতত্ব বিকাশ’ প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উজ্জীমান আক্তার। উপস্থিত ছিলেন নারীপক্ষের সদস্য রিনা রায়, প্রকল্প সমন্বয়কারী কামরুন নাহার, সদস্য ফরিদা ইয়াছমিন।
কামরুন নাহার বলেন, ‘যারা কমিটি গঠন করেনি, সম্প্রতি তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে এও বলা হয়েছে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনও যৌন হয়রানি প্রতিরেরাধ কমিটি গঠন করেনি, তা আদালত অবমাননা কর সামিল হবে। এরপরেই বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কমিটি পাঠিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা একটা গাইড লাইন করেছি। এতে একটা মেয়ের জীবনও যদি বেঁচে যায়, তাহলেই আমাদের স্বার্থকতা। তবে যে যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করলে অনেক সমস্যা সমাধান হবে।’ এ সময় তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম অনেক একটিভ। তা ছাড়া, আজকালকার শিশুর জন্য সামাজিকীকরণ হচ্ছে না। ফলে তাদের মানবিক মূল্যবোধের জায়গাটাও কমে গেছে। তাই অ্যাসেম্বেলিতে প্রতিদিন দুই/তিনটা নৈতিক বাক্য পাঠ করানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় বক্তারা ২০৪১ সালের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যৌন নিপীড়নমুক্ত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ১০৯, ৯৯৯ নম্বরগুলো সম্পর্কে জানানোর ওপরও জোর দেন। কারণ, কোনো মেয়ে বিপদে পড়লেই যেন এই দুই নম্বরে কল করে সহযোগিতা চায়।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১২/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
