সনদ জালিয়াতি করে বিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়ার অভিযোগ

  নিউজ ডেস্ক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ডিগ্রী পাশের সনদ জালিয়াতি করে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় বিদ্যালয়ের দপ্তরি পদে নিয়োগ নিয়ে চলছে লবিং-গ্রুপিং। এছাড়া সভাপতি নিজেই শর্তসাপেক্ষে প্রধান শিক্ষকের পরিবর্তে ক্লাস নেন।

জানা গেছে, উপজেলার কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি চরপাকা গ্রামের মৃত সাজেমান আলির ছেলে দুরুল এসএসসি পাশ হলেও ডিগ্রী পাশের জাল সনদ দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ নিয়ে সভাপতি পদে মনোনীত হয়েছেন। এ পদে তাকে মনোনীত করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।

অভিযুক্ত দুরুল প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার মানুষ কেউ মুখ খুলছে না। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক তৌহিদুর রহমান বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন শিবগঞ্জে। তিনি সপ্তাহে দুইদিন বিদ্যালয়ে যান আর বাকি ৪ দিন দুরুল তার বদলে ক্লাস নেন।

ডিগ্রী পাশের জাল সনদের কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত সভাপতি দুরুল বলেন, প্রধান শিক্ষককে বলেছি এ পদে থাকবো না। তারপর কিভাবে আছি তা জানি না।

প্রধান শিক্ষক তৌহিদুর রহমান বলেন, ডিগ্রী পাশ সনদ জাল কি না তা যাচাই-বাছাই করবেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। আমি শুধু কাগজপত্র শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ার মালিক। গত নভেম্বর মাসে কাগজপত্রসহ কমিটির তালিকা জমা দিয়েছি। যেহেতু এ পর্যন্ত অনুমোদন হয়নি, সেহেতু ধরে নেওয়া হয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি অনুমোদিত হয়ে গেছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার বলেন, কমিটির তালিকা জমা দেওয়ার পর ৩ মাস পার হয়ে গেলে তা অনুমোদিত বলে বিবেচিত হবে। সভাপতির ডিগ্রী পাশ সনদ জাল কি না তা খতিয়ে দেখবে প্রধান শিক্ষক। এটি আমার দায়িত্ব নয়। তবে সনদ জাল হয়ে থাকলে দুরুলকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হায়াত বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বিদ্যালয়ের সব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কোনো ডিও লেটার দেওয়া হয় না। শুধু দু’জন অভিভাবক সদস্য মনোনীত করা হয়। সভাপতির সনদ জাল হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.