নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহঃ ছাত্রলীগের নানা অপকর্ম ও অফিসার্স পরিষদের অবৈধ কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মদদ দেওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। এ নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং চারটি কর্মচারী সংগঠন। এতে প্রশাসনিকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ডে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার দিনভর এসব ঘটনার বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) কক্ষে অবস্থান নিয়ে অঘোষিত কর্মবিরতি পালন করেছেন কর্মচারী পরিষদের নেতাকর্মী এবং তিন নারী শিক্ষক।
একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে কর্মবিরতি পালন করে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে চারটি কর্মচারী সংগঠন। এই সংগঠনগুলো হলো- তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী পরিষদ, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী পরিষদ এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড।
কারিগরি কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম জানান, গত ১ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষী আব্দুল্লাহকে মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদির অনুসারী আকাশ ও তার সঙ্গীরা। এ ঘটনার বিচার দাবিতে টানা কর্মবিরতি ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনে নামে চারটি কর্মচারী সংগঠন।
এ নিয়ে গত ৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বিষয়টি সুরাহা করার জন্য চারটি কর্মচারী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনায় বসেছিল। সেখানে অফিসার্স পরিষেদের অবৈধ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কূটক্তি করায় মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় শনিবার রাতে (৮ এপ্রিল) দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসে কর্মচারীকে মারধরের ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা, আহত কর্মচারীকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধের শাস্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে এই আশ্বাস বাস্তবায়ন না হলে কর্মচারী সংগঠনগুলো কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবৈধ মদদ দেওয়ার অভিযোগে দিনভর ভিসি কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মামনুর রশিদ জানান, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অফিসার্স পরিষদের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান কমিটির অবৈধ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন কমিশন গঠন না করে সংগঠনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এতে মদদ দিচ্ছেন ভিসি।
অফিসার্স পরিষদের সাবেক সভাপতি আরিফ জাহাঙ্গীর জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২ জন কর্মচারীর বেতন থেকে জনপ্রতি ১৮শ টাকা করে কেটে নেওয়া হয়েছে। অথচ লিখিতভাবে বেতন থেকে কোন ধরনের টাকা না কাটতে ভিসি বরাবরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। এই অবস্থায় আমরা টাকা ফেরত চেয়ে এবং অফিসার্স পরিষদের অবৈধ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আমরা ভিসি কক্ষে অবস্থান নিয়েছি। দাবি পূরণ না হলে আমাদের আন্দোলন চলবে।
অপরদিকে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ভেটেরিনারি অনুষদের এক নারী শিক্ষিকার কক্ষে ছাত্রলীগ সভাপতি রিয়াদের নেতৃত্বে হামলা ও ভাঙচুর করে এক পরীক্ষার্থীকে মারধর এবং তিন নারী শিক্ষিকা লাঞ্ছিত করার ঘটনার বিচার চেয়ে ভিসি কক্ষে দিনভর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক প্রফেসর ড. পূর্বা ইসলাম, প্রফেসর ড. আফরিনা মোস্তারিন ও পপি খাতুন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্যাতিত শিক্ষিকা প্রফেসর ড. পূর্বা ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের হামলা ও লাঞ্ছিতের ঘটনার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উল্টো তারা অভিযোগের মূলবিষয় পাশ কাটিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নামে অভিযুক্তদের মদদ দিচ্ছে। এই অবস্থায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।
এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বক্ষেত্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতি সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান তার কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বলেন, কর্মচারীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করছি, দ্রুত এ বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।
সেই সঙ্গে অফিসার্স পরিষদের কাউকে এককভাবে মদদ দেওয়ার কিছু নেই দাবি করে তিনি বলেন, সংগঠন গঠনতন্ত্র মেনে চলবে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ সময় তিন নারী শিক্ষিকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি কাজ করছে। আজকেই (রবিবার) তাদের ডেকে তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে এই তদন্তে ঘটনার বিষয়বস্তু পরিবর্তন করে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে কূটকৌশল করা হচ্ছে বলে খোদ ভিসির সামনেই অভিযোগ করেন নির্যাতিত শিক্ষিকা প্রফেসর ড. পূর্বা ইসলাম।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১০/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
