শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকাঃ সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে গুরুতর জখমের ডাক্তারি সনদ দেওয়ার বাণিজ্য কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কয়েকজন অসাধু কর্মচারী ও চিকিৎসক দালাল চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই চালাচ্ছেন এ অনৈতিক কার্যক্রম। সামান্য জখম হয়েছে এমন রোগীর ক্ষেত্রেও মামলায় ৩২৬ ধারা যুক্ত করতে ‘গ্রিভিয়াস বা গুরুতর’ জখমের ডাক্তারি সনদ দেওয়া হচ্ছে।
কয়েকটি পত্রিকায় গত বছর এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জরুরি বিভাগের কয়েকজন চিকিৎসককে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তিরস্কার ও শোকজ করা হয়। এর পর দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের দপ্তরেও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি চিঠি পাঠায়। তবে স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এখনও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক ও তদারকি কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে বিষয়টি জেনেও চুপ থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় এমপি হাবিবে মিল্লাত মুন্না বিশেষজ্ঞ হৃদরোগ চিকিৎসক। তিনি নিজেও দুটি ঘটনায় এ রকম অভিযোগ পেয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তিন চিকিৎসককে গত বছর শোকজ করেন। তিনি স্বাস্থ্য মহাপরিচালকসহ তাঁর দপ্তরের তদারকি কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন। তবে এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে সম্প্রতি জেলা আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভায়ও এই হাসপাতালে ডাক্তারি সনদ বাণিজ্য নিয়ে অভিযোগ তোলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও আইনজীবীরা। মারামারি ও সংঘর্ষের মামলায় রোগী বা স্বজনের হাতে গুরুতর জখমের সনদ সরাসরি না দিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। এর পর সনদ প্রদানে ডাক্তারি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত মানা হলেও সনদ রোগী বা স্বজনের কাছ থেকে আগেই অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বন্ধ হয়নি। এর আগে আদালতেও এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে একাধিকবার সনদ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। ডা. ফয়সাল আহম্মেদের দেওয়া জখমি সনদ আদালতে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়।
উল্লাপাড়া উপজেলার রাজাপুর গ্রামের গুরুতর জখম হওয়া রোগী সাহাদত ফকিরের ভাই আব্দুস সালাম হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে গত ৪ এপ্রিল লিখিত অভিযোগ দেন। গত ৫ এপ্রিল জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে ডিসির সামনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হাবিবে মিল্লাত মুন্নাকে অনুরূপ অভিযোগ দেন রোগীর স্বজনরা। ওই অভিযোগের কপি স্বাস্থ্য মহাপরিচালকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘জখমি রোগী হওয়া সত্ত্বেও সাহাদত ফকিরের ডাক্তারি সনদের জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন হাসপাতালের চিকিৎসক শামীমুল ইসলাম। এর পর উল্লাপাড়ায় থানা পুলিশের কাছে সনদ সরবরাহ করতে ২০ হাজার টাকা নেন শামীমুল। কিন্তু সনদ সরবরাহ না করে উল্টো প্রতিপক্ষের সঙ্গে মীমাংসার জন্য প্রস্তাব দেন তিনি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান খান গত বৃহস্পতিবার বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। ব্যস্ততার চাপে অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে পারিনি।’
অধ্যাপক হাবিবে মিল্লাত মুন্না বলেন, ‘জরুরি বিভাগের তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এর আগেও অনুরূপ অভিযোগ পেয়েছি। শোকজ করার পর তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মহাপরিচালককেও পত্র দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যবস্থা নিলে হয়তো তাঁরা এতটা বেপরোয়া হতেন না। উল্লাপাড়ার আব্দুস সালামের অভিযোগও স্বাস্থ্য বিভাগে পাঠিয়ে দিয়েছি।’
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীমুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ দিয়েছে, শুনেছি। কর্তৃপক্ষ এখনও আমাকে ডাকেনি। অভিযোগ দিলেই তো হলো না, তার প্রমাণও করতে হবে।’
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. অধ্যাপক এ বি এম খুরশীদ আলম ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. অধ্যাপক আহম্মেদুল কবিরের মোবাইল ফোনে কল করে ও ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সামিউল ইসলাম সাদি এ বিষয়ে বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১০/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
