নিজস্ব প্রতিবেদক, বরগুনাঃ জেলায় চিকিৎসকের অবহেলায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে এসে মাওলানা মো. শাহ আলম (৫৫) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। তিনি পৌর শহরের গগন এলাকার মৃত্যু তমিজ উদ্দিন হাং এর ছেলে। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে নিজের মোটরসাইকেল চালিয়ে হাসপাতালে এসে ডাক্তারের অবহেলায় ব্যথা নিয়ে বাঁচান বাঁচান বলে শেষ পর্যন্ত জীবন দিতে হয়েছে একজন মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের।
জানা যায়, বরগুনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন প্রশিক্ষণের মধ্যে জোহরের নামাজ পড়া শেষ হলেই বুকে ব্যথা ওঠে। এসময় নিজের মোটরসাইকেল চালিয়ে আর একজন শিক্ষক নিয়ে হাসপাতালে আসেন। ব্যথায় ডাক চিৎকার করতে করতে মাদরাসা প্রধান শিক্ষ শাহ আলম মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনার একপর্যায়ে মৃত ব্যক্তির স্বজনরা নার্স ও চিকিৎসকের উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
মৃত্যু ব্যক্তির সঙ্গে থাকা (শিক্ষক) শাহাদাত হোসেন শানু বলেন, আমরা সকালে সদর বালিকা বিদ্যালয়ে ট্রেনিংয়ের মধ্যে জোহরের নামাজের পরে হঠাৎ তার বুকের ভিতরে ব্যথা করতে থাকলে আমি সঙ্গে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। সে অনেক চিৎকার করছে। আমি অনেক ডাকাডাকি করছি তবে চিকিৎসকসহ দায়িত্বরত একজনও এগিয়ে আসেনি! চিকিৎসক আসতে আসতে রোগীর মৃত্যু হয়েছে! এই যদি হয় একটি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের অবস্থা! কর্তৃপক্ষের কাছে জোর বিচার দাবি জানাচ্ছি। শিক্ষকরা কি মানুষ না! আজকে আমরাই লাঞ্ছিত হয়েছি! রোগীর মৃত্যু পরে চিকিৎসক আসছে! তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যায়!
সকল প্রধান শিক্ষক ও মাদরাসা সুপারগণ রাগান্বিত হয়ে বলেন, ধিক্কার জানাই এসব ডাক্তারদের। তারাও তো একদিন লেখাপড়া করে শিক্ষকদের দোয়ায় এ পর্যন্ত এসেছে। কেমন করে তারা এমন আচরণ করতে পারল! কর্তৃপক্ষের কাছে ডাক্তার আব্দুলাকে বিচার দাবি করছি।
এ বিষয় জানতে যোগাযোগ করা হলে ওই সময়ের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ কাফি বলেন, আমি বাহিরে রিকশায় রোগী দেখছিলাম। এতে কিছুটা বিড়ম্বনা হয়েছে। তবে এখানে আমার কোনো ভুল ছিল না।
জেনারেল হাসপাতালের (তত্ত্বাবধায়ক) ডাক্তার লোকমান হোসাইন মুঠোফোনে বলেন, আমি পরে কথা বলব।
বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মো. ফজলুর হক বলেন, আমাকে শিক্ষা অফিসার অবগত করেছেন! এছাড়া কেউ আমাকে বলেনি! তবে এমনটি যদি হয়ে থাকে এটি অনেক বড় ভুল হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী সব সময় জরুরি বিভাগে ডাক্তার থাকার কথা। জীবন মরণ আল্লাহর হাতে তবে আমাদের দায়িত্ব কর্তব্য ঠিকমতো পালন করা উচিত! এটি বলব হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের গাফিলতি!
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের বিষয়ে আমার কোনো হাত নেই। এটি সম্পূর্ণ দেখাশোনা করে তত্ত্বাবধায়ক।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৫/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
