শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকাঃ মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়ন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সমান সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ) প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল ২০১৪ সালে। বছরের পর বছর পার হলেও প্রকল্পটির মেয়াদ ও ব্যয় গুণে গুণে বাড়ছে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় এটির তৃতীয় সংশোধিত প্রস্তাবটি আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপিত হয়।
২০১৪ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল ১ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। সময় ছিল ২০১৭ সাল পর্যন্ত। তিন বছরের প্রকল্প এখন ১০ বছর পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটির ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটি শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৮৯ শতাংশ।
নতুন করে প্রকল্পটি সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে কভিড-১৯ অতিমারীর প্রাদুর্ভাবের অব্যবহিত পরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে প্রকল্পটির অগ্রগতি শ্লথ ও প্রলম্বিত হয়ে পড়ে। সরকারি কাজে কৃচ্ছ্রসাধন নীতির কারণে কতিপয় আবশ্যকীয় প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, আইসিটি টেকসইকরণ কর্মসূচি ও ভোকেশনাল কর্মসূচি বাস্তবায়ন অসম্পন্ন রয়েছে। ফলে প্রকল্পের কর্মসূচির শতভাগ বাস্তবায়ন ও এর অর্জন টেকসইকরণের লক্ষ্যে প্রকল্পের কার্যকর ও টেকসই সমাপ্তি আবশ্যক। প্রকল্পটির ইতিমধ্যে দুইবার সংশোধন ও চারবার ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে মেয়াদ বৃদ্ধি হয়েছে।
প্রকল্পটির মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, কারিকুলামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ১৫টি বিষয়ে টিচার্স গাইড প্রণয়ন, স্টাডিস অ্যান্ড সাবকন্ট্রাক্ট, উপবৃত্তি, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ ও অনলাইন ব্যবস্থাপনা, স্কুল মনিটরিং ও সুপারভিশন জোরদারকরণে মাঠপর্যায়ে জনবল নিয়োগ, সাধারণ স্কুল-মাদ্রাসায় ভোকেশনাল ও প্রি-ভোকেশনাল কোর্স চালু করা, পিছিয়ে পড়া স্কুল-মাদ্রাসার জন্য রিসোর্স টিচার প্রোগ্রাম (ইংরেজি, গণিত অথবা বিজ্ঞান বিষয়ে একজন করে শিক্ষক নিয়োগ), জেলা শিক্ষা অফিস ভবনের সম্প্রসারণ, বান্দরবান জেলা শিক্ষা অফিস ভবন নির্মাণ, চারটি মহানগরে নতুন থানা শিক্ষা অফিস স্থাপন, বিদ্যালয়/মাদ্রাসায় অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, কারিগরি শিক্ষার বিস্তরণ (ভবন নির্মাণ) এবং আইসিটি লার্নিং সেন্টার স্থাপন। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (জুলাই ২০২০-জুন ২০২৫) মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়নের কৌশলসমূহের মধ্যে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সবার জন্য একই পাঠ্যসূচি উন্নয়ন, পাঠদানের সুফল পরিমাপে আরও ভালো পদ্ধতি উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পদ্ধতি মূল্যায়ন ও পরীক্ষা সংস্কার, বিজ্ঞানে তালিকাভুক্তি বাড়ানো, সমতা বৃদ্ধি, আইসিটিনির্ভর শিক্ষা, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষায় প্রাক-বৃত্তিমূলক (প্রি-ভিওসি) এবং বৃত্তিমূলক (ভিওসি) শিক্ষা চালুকরণ।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৪/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
