শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকাঃ প্রভাবশালী প্রতিবেশীর সীমানা প্রাচীরে অবরুদ্ধ হয়ে আছে মহিলা মাদরাসার শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী ও দুটি পরিবার। দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তায় ইটের প্রাচীর নির্মাণ করায় এখন বন্ধ হওয়ার পথে রাবেয়া বসরী মহিলা মাদরাসাটি। ছাত্র-ছাত্রীসহ দুটি পরিবারের সবাইকে মাদরাসা ও বাড়িতে আসা-যাওয়া করতে হয় মই দিয়ে দেয়াল টপকে। এমনি এক অমানবিক ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের উত্তর বাখরাবাদ গ্রামে।
জানা যায়, উত্তর বাখরাবাদ গ্রামের রাবেয়া বসরী মহিলা মাদরাসা ও দুটি পরিবারের বাড়ির চারপাশে প্রতিবেশীদের বাড়ি ও ইটের সীমানা দেয়াল। বের হওয়ার পথ না থাকায় ছাত্রছাত্রীদের প্রতিদিন মাদরাসা যেতে হয় বাঁশের মই বেয়ে প্রতিবেশীদের দেয়াল টপকে। আবার তাদের বাড়ি ফিরতেও হয় দেয়াল বেয়ে। দু-তিনবার পা ফসকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে অনেকেই। প্রতিবেশীর এই অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। এ ঘটনাকে চরম অনামবিক বলেন মনে করেন তারা। মানুষের চলাচলের রাস্তা কখনোই বন্ধ করা ঠিক নয় বলেও দাবি স্থানীয়দের।
ভুক্তভোগী রাবেয়া বসরী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বি চাপিতলা গ্রামের মরহুম হাজি আব্দুর রহমান ২০১৮ সালে ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য রাস্তাটি মৌখিকভাবে দিয়ে যান। কিন্তু তার মৃত্যুর পর ছেলে মাইনুদ্দিন ও তার ভাই শফিকুল ইসলাম মাদরাসা ও প্রতিবেশীদের যাতায়াতের রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান ইকবাল সরকারের কাছে বেশ কয়েকবার গেলেও তিনি ২ বছর ধরে আমাকে ঘুরাচ্ছেন। ২ বছর পূর্বে বাড়িসহ জমি কেনার প্রস্তাব দেন এরা। ক্রয় করতে রাজি না হওয়ায় সীমানা প্রচীর নির্মাণ করে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ নজরুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও রামচন্দ্রপুর রামকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক কবির আহমেদ ভূঁইয়া আক্ষেপ করে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে বসবাস করছি এবং বসবাসের শুরু থেকেই ওই সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে আসছি। হঠাৎ করে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি।
সীমানা প্রাচীর নির্মাণকারী মাইনুদ্দিন বলেন, প্রাচীর নির্মাণ করে আমি কোনো অপরাধ করিনি। আমার জমিতে আমি প্রাচীর নির্মাণ করেছি। আর এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।
রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল সরকার বলেন, বেশ কয়েকবার আমি চেষ্টা করেছি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা জন্য কিন্তু জমির মালিক মাইনুদ্দিন তার জমির ওপর দিয়ে সড়ক দিতে রাজি হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জনী জানান, অবরুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আমি জেনেছি। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেছি মীমাংসা করে দেওয়া জন্য। এর পরও ভুক্তভোগীরা আদালতের সহযোগিতা নিতে পারেন।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
