নিজস্ব প্রতিবেতক, লক্ষ্মীপুরঃ জেলার কমলনগরে সজিব আল মারুফ নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিয়ের নামে স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১ বছর আগে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে তথ্য গোপন করে বিয়ে করে। সম্প্রতি দশম শ্রেণির আরেক ছাত্রীকে বিয়ে করলে বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনায় প্রথম স্ত্রী ও নবম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া বিনতে ইমরান বাদী হয়ে এই শিক্ষকের নামে আদালতে মামলা করেন।
এ নিয়ে গত ২০ মার্চ “এক বছরের মাথায় ৯ম ও ১০ শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে বিয়ে করলেন স্কুল শিক্ষক” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
জানা গেছে, অভিযুক্ত মারুফ উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের মিয়াপাড়া এলাকার আবুল বারাকাতের ছেলে। তিনি লাইফ লাইন স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
জানা গেছে, উপজেলার লাইফ লাইন স্কুলে শিক্ষকতার সুবাধে মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। গত বছরের ৪ মে অভিযুক্ত নবম শ্রেণির সুমাইয়া বিনতে ইমরান নামে এক ছাত্রীকে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিয়ে করে। তখন একটি ভুয়া কাবিননামাও করা হয়। পরে ওই ছাত্রীকে সামাজিক স্বীকৃতি দিয়ে নিজের বাড়িতে না নিলেও প্রায় ১ বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক ছিলো। এসব তথ্য গোপন করে মারুফ সম্প্রতি উপজেলার হাজিরহাট সরকারি মিল্লাত একাডেমীর দশম শ্রেণির সিদরাতুল মুনতাহা মুমু নামে আরেক স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করে। এ সময় ওই ছাত্রীর নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলো।
এ খবর পেয়ে সুমাইয়া স্ত্রী স্বীকৃতির দাবি নিয়ে ছুটে যায় মারুফের বাড়িতে। স্ত্রীর মর্যাদা না পেলে আত্মহত্যা করবে এমন হুমকি দিলে সমঝোতার আশ্বাস দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না করে সুমাইয়াকে মারধর করে সজিবের পরিবার।
গত বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী ছাত্রী বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলার এজাহার উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী ছাত্রীর সঙ্গে গত বছর সজীব কৌশলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে ২০২২ সালের ৪ মে ভুয়া কাবিননামা করে ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে সজীব। পরবর্তীতে ছাত্রী স্ত্রীর মর্যাদা দিতে চাপ দিলে সজীব কালক্ষেপণ করতে থাকে। এরই মধ্যে সজীব অন্যত্র বিয়ের উদ্যোগ নেয়। খবর পেয়ে গত ২৩ মার্চ ছাত্রীটি কাবিননামা নিয়ে সজীবের বাড়িতে যায়। এ সময় সজীব ও তার স্বজনরা ছাত্রীটিকে মারধর করে। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে লাইফ লাইন স্কুলের পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ছাত্রীর সঙ্গে এমন জঘন্যতম ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো নয়। ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর সজীবকে শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন তিনি।
কমলনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, এ বিষয়ে তিনি এখনও আদালতের কোনো নির্দেশনা হাতে পাননি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
