মূলত শিশুকে দত্তক না পেয়েই বাবা-ভাইকে নির্যাতন করেন শিক্ষিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুরঃ জেলার মধুখালীতে সন্তানকে দত্তক না দেওয়ায় বাবা ও তার ভাইকে স্কুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার নয় দিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়। গত ১৭মার্চ মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ক্লাসরুমে এ ঘটনা ঘটে।

মেয়েকে দত্তক না দেওয়ায় স্কুলের শিক্ষক লিপি আক্তারের নির্দেশে নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি করেছেন নির্যাতনের শিকার ইয়ামিন মৃধা।

নির্যাতনের শিকার ইয়ামিন মৃধা বাদি হয়ে ২০মার্চ ঘটনার মূল হোতা মো. কুতুবউদ্দিন, ফয়সাল ও জহিরুলসহ অজ্ঞাত ৮-১০জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। জানা যায়, ইয়ামিন তার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে মাঝকান্দি এলাকায় ভাড়া থাকেন। মেয়েটি আড়ুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী।
নির্যাতনের শিকার ইয়ামিন মৃধা জানান, আমার মেয়ে ইভাকে স্কুলে ভর্তি করার পর থেকে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক লিপি আক্তার নিঃসন্তান হওয়ায় ইভাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দত্তক নেওয়ার চেষ্টা করেন। মাস দুই আগে ইভাকে ওই শিক্ষক আমাকে না বলে তার বাড়িতে নিয়ে প্রায় সপ্তাহ খানিক রাখেন। নির্যাতনের ঘটনার তিনদিন আগে ইভাকে পুনরায় আমাকে না জানিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যান।
তিনি জানান, আমরা খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে জানতে পারি ওই শিক্ষকের ফরিদপুরের বাসায় ইভা আছে। পরে শিক্ষক লিপি আক্তারকে ফোন দিলে তিনি শুক্রবার (১৭ মার্চ) আমাকে ও ছেলেকে স্কুলে যেতে বলেন। প্রথমে আমি ছেলেকে স্কুলে পাঠালে তাকে আটকিয়ে রেখে আমাকে যেতে বলেন। আমি স্কুলেব যাওয়ার পর কুতুব উদ্দিনসহ আসামিরা মেয়েকে স্ট্যাম্পে লিখে দিতে বলে। তাদের কথায় রাজি না হওয়ায় আমাদের ওপর নির্যাতন চালান তারা।
তবে সহকারী শিক্ষক লিপি আক্তার তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

 

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দশরথ চন্দ্র দাস বলেন, স্কুলে এত বড় একটা ঘটনা ঘটলেও তা প্রধান শিক্ষক আমাকে জানাননি। লোক মারফত জানতে পারি। তবে বাবা-ছেলেকে স্কুলের মধ্যে মারধরের একটি ভিডিও আমি শনিবার দেখেছি। এ রকম খারাপ কাজ যারা করেছে তাদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনা হোক।

প্রধান শিক্ষক মো. কবিরুজ্জামান বলেন, বাবা-ছেলেকে পেটানোর ঘটনা জানার পর পুলিশকে খবর দেই। পুলিশ তাদের নিয়ে যায়। এমন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে আমার জানা ছিল না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বা শিক্ষকরা জড়িত আছেন কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।

মধুখালী থানার ওসি মো. সহিদুল ইসলাম জানান, এক কিশোর ও তার বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগে গত ২০ মার্চ থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার পরপরই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রবিবার ফয়সাল নামে আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৭/০৩/২০২৩  

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.