শিক্ষিকার নির্দেশে শ্রেণিকক্ষে বাবা-ছেলেকে নির্যাতন!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুরঃ জেলার মধুখালী উপজেলার আড়ুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কিশোর ও তার বাবাকে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে। যার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। মেয়েকে দত্তক না দেওয়ায় স্কুল শিক্ষিকার নির্দেশে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্যাতনের শিকার ইয়ামিন মৃধা।

১৭ মার্চ স্কুলে শিশু দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালে স্কুলের একটি কক্ষে বাবা-ছেলেকে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় ইয়ামিন বাদী হয়ে ২০ মার্চ থানায় মামলা করেন। এতে কুতুবউদ্দিন, ফয়সাল ও জহিরুলের নামসহ অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় ফয়সাল ও জহিরুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে তারা জামিন পেয়ে যান বলে জানিয়েছেন মধুখালী থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম।

ওসি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মূলহোতা মো. কুতুবউদ্দিন (২৫) এখনো পলাতক। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইয়ামিন তার ছেলে মেয়েকে নিয়ে মাঝকান্দি এলাকায় ভাড়া থাকেন। সন্তানদের মা নেই। তিনি কাজের জন্য সপ্তাহে পাঁচদিন বাড়ির বাহিরে থাকেন ইয়ামিন। বাচ্চাদের সৎমাও প্রবাসী। মেয়েটি আড়ুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

মারধরের শিকার ইয়ামিন মৃধা বলেন, “স্কুলের সহকারী শিক্ষক লিপি আক্তার নিঃসন্তান। তিনি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আমার মেয়েটিকে দত্তক নিতে চেয়েছিলেন। মাস দুই আগে ওই শিক্ষিকা আমাকে না বলে মেয়েটিকে বাড়িতে নিয়ে সপ্তাহখানেক রাখেন। আমি বাড়ি ফিরে তাকে নিয়ে আসি।”

ছেলেসহ তাকে মারধরের ঘটনা উল্লেখ করে ইয়ামিন মৃধা বলেন, ‘১৪ মার্চ মেয়েটা আবারও নিখোঁজ হয়। ওই শিক্ষকের বাড়ি আছে বলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি। লিপি আক্তারকে ফোন দিলে তিনি শুক্রবার (১৭ মার্চ) আমাকে ও ছেলেকে স্কুলে যেতে বলেন। প্রথমে আমার ছেলেকে স্কুলে পাঠালে তাকে আটকে রেখে আমাকে যেতে বলেন। আমার যাওয়ার পরেই কুতুব উদ্দিনসহ আসামিরা আমার মেয়েটাকে ওই শিক্ষিকাকে দিয়ে দিতে চাপ দেয় ও স্ট্যাম্পে লিখে দিতে বলেন। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমাদের বাবা-ছেলের ওপর তারা নির্যাতন চালায়।’

শিক্ষিকা লিপি আক্তার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রী আমার বাসায় গিয়ে কান্নাকাটি করে ও আমার কাছে থাকতে চায়। পরদিন শুত্রবার সকালে আমি তাকে সাথে করে স্কুলে নিয়ে আসি এবং স্কুলের অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে করে বাসায় গিয়ে তাকে তার বাবার কাছে পৌঁছে দেই।’

ওই শিশুটি আপনার বাসা চিনল কিভাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে লিপি আক্তার কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ থাকেন। আপনি আগেও বাচ্চাটিকে বাসায় নিয়ে রেখেছিলেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি এখন বাসে আছি। বাসায় গিয়ে আপনার সাথে কথা বলব।’

নির্যাতনের ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলের শ্রেণিকক্ষে বাবা-ছেলেকে আটকে বেধড়ক মারধর করেন কয়েকজন যুবক ও এক তরুণী। রবিবার (২৬ মার্চ) বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দশরথ চন্দ্র দাস বলেন, “এতো বড় একটা ঘটনা আমি লোকমুখে জানতে পেরেছি। প্রধানশিক্ষকও আমাকে কিছু জানাননি। গতকাল নির্যাতনের ভিডিও দেখলাম। এ রকম খারাপ কাজ যারা করেছে তাদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কবিরুজ্জামান বলেন, ‘বাবা-ছেলেকে পেটানোর ঘটনা জানার পর পুলিশকে খবর দেই। পুলিশ তাদের নিয়ে যায়। এমন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে আমার জানা ছিল না।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বা শিক্ষকরা জড়িত আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৬/০৩/২০২৩

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়। 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.