নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুরঃ জেলার বেলটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমানকে লিখিত রেজুলেশনের মাধ্যমে দ্বায়িত্ব থেকে অব্যহতি প্রদান করেছে অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবক বৃন্দ। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের বৈঠকে মাধ্যমে রেজুলেশন করে এই পরিপত্রের মাধ্যমে বহিষ্কার আদেশ প্রেরন করা হয়।
অব্যহতি পত্রে জানা যায়, ১৬ জানুয়ারি বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজের মালামাল ক্রয়ের জন্য অফিস সহকারী মো. কামরুজ্জামানের দ্বায়িত্বে নৈশপ্রহরী কাজিম উদ্দিনের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক বিসিক শাখা থেকে ১ লাখ ২০হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান।
ঐ টাকা ফেরত প্রদানের জন্য ৫ফেব্রুয়ারি ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মুতাবেক ৭ ফেব্রুয়ারি আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত প্রদান সহ কারণ দর্শানোর পত্র প্রেরণ করা হয়। যার লিখিত জবাব ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান অধ্যাবধি ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোন টাকা প্রদান করেনি এবিষয়ে তিনি কোন সুষ্ঠ জবাব ও দেননি।
এছাড়াও ম্যানেজিং কমিটি ও উন্নয়ন উপকমিটি সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, অশালীন আচরণ হুমকি প্রদান, বিশেষ করে উন্নয়ন উপকমিটি সদস্য সোহরাব হোসেন সরোয়ারকে অর্তকৃত ভাবে চেয়ার থেকে ধাক্কা দিয়ে ফলে দেয় এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হয়েও পরিপত্রের ভর্হিভূত ভাবে নিজ বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদেরকে অনবরত প্রাইভেট পড়িয়ে যাচ্ছেন।
বেআইনি কার্যকলাপ ও অপরাধের দায়ে স্বীকৃতপ্রাপ্ত বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষক গনের চাকরী শর্ত বিধিমালা-১৯৮৯ এর দারা ১১,১২,১৩ ও ১৪ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমানকে দ্বায়িত্ব থেকে অব্যহতি সহ সহকারী প্রধান শিক্ষককের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ম্যানেজিং কমিটি ও উন্নয়ন উপকমিটির সদস্য সরোয়ার হোসেন সরোয়ার বলেন, স্কুলের আত্মসাৎ কৃত টাকার ও প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলা মাত্র ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান আমাকে ধাক্কা দিয়ে চেয়ার থেকে ফেলে দেয় এবং চেয়ার দিয়ে মারতে আসে ও অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাজ্জাত হোসেন বাবুল বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান দায়িত্ব পাওয়ার পরথেকেই সে তার নিজের ইচ্ছেমতো স্কুল পরিচালনা ও নিয়ম নিতীর তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, আমি ২০ফেব্রুয়ারি বরখাস্তের একটি নোটিশ পেয়েছি এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি আরো একটি কারণ দর্শানোর নোটিশও আমাকে প্রদান করে। এছাড়াও নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে তিন কার্যদিবসের মধ্যে দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে।
আমি আমার নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে জুলেখা সেন্ট্রাল স্কুলের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে প্রাইভেট পড়াই সেটা তো আপনারা দেখেছেন।
সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন বলেন, ওই স্কুলের মারামারির ঘটনাটি আমি অবগত আছি। তবে কোন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার নিজ বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবে না।
এটি সরকারের পরিপত্র বহির্ভুত। যদি কোন শিক্ষক এই নিয়ম ভঙ্গ করে তাহলে সরকারি আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৭/০২/২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
