জনবল কাঠামো ও প্রবিধিমালা পরিবর্তনের দিকে দৃষ্টি

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ নিয়োগ ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রবিধিমালা পরিবর্তনের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি পানির মূল্যবৃদ্ধিতেও আর মন্ত্রণালয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে চায় না সংস্থাটি। এ জন্য জনবল কাঠামোয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, কায়িক শ্রম কমিয়ে প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়াতে এই পরিবর্তনের চিন্তা চলছে। তবে এই পরিবর্তনে চাকরি হারানোর আশঙ্কা করছেন অনেক কর্মী। সংস্থাটির শ্রমিক ইউনিয়ন নেতার দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, জনবল কাঠামো পরিবর্তনে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয় ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। তারা ইতোমধ্যে একটি খসড়া হস্তান্তর করেছে। সেটি এখন ঘষামাজার কাজ চলছে, তা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত এলেই নতুন জনবল কাঠামোয় চলবে ওয়াসা।

অভিযোগ রয়েছে প্রবিধিমালা পরিবর্তন করতে পারলে, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যখন যেভাবে চাইবেন, সেভাবে লোক নিয়োগ ও ছাঁটাই করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরিচালনা বোর্ডেও আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া

তিতাস, ডিপিডিসির মতো ঢাকা ওয়াসাকেও স্বতন্ত্র কোম্পানিতে রূপান্তরের চিন্তা রয়েছে। এর ফলে প্রয়োজনমতো পানির মূল্যবৃদ্ধি ও আয়ের খাত বাড়ানোর সুযোগ পাবে সংস্থাটি।

তবে ঢাকা ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ‘কোম্পানিতে রূপান্তরের বিষয়টি সর্বৈব মিথ্যা। কোনো প্রশ্নই আসে না।’ জনবল কাঠামোয় পরিবর্তনে সংস্থা অধিক স্বয়ংক্রিয় ‘ডায়নামিক’ ও গতিশীল হবে বলে জানান তিনি।

ওয়াসা এমডি বলেন, এর কারণ হচ্ছে বর্তমানে দেশে যে ডিজিটাল পরিবর্তন হলো সেই ডিজিটাল পরিবর্তনকে ধারণ করার মতো হাইলি টেনিক্যাল, টেকনোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এবং টেকনোলজিভিত্তিক অরগানোগ্রাম করা হবে। পদ্ধতিগতভাবেই পরিবর্তন হয়ে যাবে। আগে যে কাজ একজন করত, সেই কাজ এখন অর্ধেক লোকে করবে। পরিবর্তনটা হলে অধিক ট্যাকনিক্যাল হয়ে যাবে। স্বল্প কায়িকশ্রম থাকবে।’

জনবল কাঠামো পরিবর্তন হলে পরবর্তী নিয়োগুলো স্থায়ী হবে না- এমন আলোচনা বোর্ডসভায় হওয়ার কথা  জানিয়েছেন পরিচালনা বোর্ডের এক সদস্য। তিনি বলেন, ‘পরিবর্তন হলে এখন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডিএমডি- যে রকম চুক্তিভিত্তিক হয় সেভাবেই পরবর্তী নিয়োগগুলো হবে। এ রকম একটা আলোচনা অনেক দিন ধরে চলছে।’

ঢাকা ওয়াসার বর্তমান জনবলের হিসাবে দেখা গেছে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা (৩ থেকে ৯নং গ্রেড পর্যন্ত) ১৯৮ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা (১০নং থেকে ১২নং গ্রেড পর্যন্ত) ২৫৩ জন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী (১৩ থেকে ১৬নং গ্রেডের) ২ হাজার ১৮৬ জন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (১৭ থেকে ২২নং গ্রেড পর্যন্ত) ২ হাজার ১৩৪ জন। অর্থাৎ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির মোট কর্মচারী রয়েছে ৪ হাজার ৩২০ জন। বাড়তি প্রযুক্তি নির্ভরতার নামে এই পদসংখ্যা কমিয়ে আনার ইঙ্গিতই দিয়েছেন ওয়াসার এমডি।

তবে জনবল কাঠামোয় পরিবর্তনের চিন্তায় ক্ষুব্ধ সংস্থাটির শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। ইউনিয়নের সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান শাহীন খানের অভিযোগ, ‘ওয়াসার বর্তমান এমডি তার নিজের স্বার্থ রক্ষার্থে অরগানোগ্রাম পরিবর্তন করতে যাচ্ছেন। এ রকম একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়নের মতামত নেওয়া আইনগতভাবে সিদ্ধ হলেও তিনি তা করেননি।

ওয়াসার এই উদ্যোগ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে চিঠি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। প্রবিধিমালা পরিবর্তনের নামে ঢাকা ওয়াসাকে কোম্পানিতে রূপান্তরের পাঁয়তারা প্রতিরোধ প্রসঙ্গে শিরোনামের সেই চিঠিতে এমডির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঢাকা ওয়াসা একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও কেন তিনি (এমডি) কোম্পানি করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তা সহজে যে কেউ অনুমান করতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানটি কোম্পানিতে রূপান্তরিত হলে পানির দাম বৃদ্ধিসহ শ্রমিক অসন্তোষ নগরবাসীর সীমাহীন ভোগান্তি বাড়বে এবং গণঅসন্তোষের কারণে নগরবাসী রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৩/০২/২৩    

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.