চরাঞ্চলের কৃষিজমিতে বেড়াবিহীন শুধু দুই চালের নিচে শিক্ষা কার্যক্রম চলছিল কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার উত্তর মাঝের চর আদর্শ নামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। দীর্ঘ এক মাস ধরে এ অবস্থা চললেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। বিষয়টি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তড়িঘড়ি করে বেড়া দিয়ে পাঠদান শুরু করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, বিদ্যালয়টি জায়গা পরিবর্তনের কারণে একেবারের কমে গেছে শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও। পরে গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে বিদ্যালয়ের ঝুলে থাকা ঘরটির বেড়া মেরামত ও পাশে নতুন একটি টিনের ঘর তোলার উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্টরা।
জেলা সদর থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় মোগলবাসা ইউনিয়নের কৃঞ্চপুর গ্রাম। এ গ্রামের পাশেই ধরলা নদীর অববাহিকার চরাঞ্চলে গেলেই দেখা মিলবে উত্তর মাঝের চর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। কিন্তু দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চারদিকে রোপা আমনের ক্ষেত। সেই ক্ষেতের মধ্যেই ঝুলে আছে বিদ্যালয়ের একটি সাইনবোর্ড। এর একটু দূরে আবাদি জমিতে ঝুলে আছে টিনের চাল। সেই চালের খুঁটি থাকলেও নেই বেড়া। আর চালের নিয়ে এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে চারটি পড়ার বেঞ্চ ও দুটি টেবিল। নেই যাওয়ার রাস্তাও। গত এক মাস ধরে খোলা ঘরে চলছিল বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত শিক্ষকরা এসে বসে থাকলেও বেহাল দশার কারণে তাদের সন্তানদের পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিলেন তারা।
এক অভিভাবক জানান, বেড়াবিহীন বিদ্যালয়ের পাশে নতুন টিনের ঘর উঠিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এখন কিছুটা পাঠদান পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সন্তানদের বিদ্যালয়ে তবে বিদ্যালয়ে পাঠানো শুরু করেছেন তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের সবকিছু আছে। ভূমি জটিলতার কারণে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তর করতে গিয়ে সাময়িক এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে এখন আর ভূমি জটিলতা নেই। ইতোমধ্যে আমরা বিদ্যালয়ের সবকিছু স্থানান্তর করে পাঠদান শুরু করেছি।
সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কানিজ আখতার জানান, ভূমি জটিলতার কারণে একই এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে স্থাপিত বিদ্যালয়টি নিজস্ব জমিতে স্থানান্তরের ফলে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে বারবার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পূর্বের বিদ্যালয়ের ঘর ভেঙে আনার তাগাদা দিলেও তারা কর্ণপাত না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা পাশে আরেকটি টিনের ঘর উঠিয়ে এবং আগের ঘরটিতে বেড়া লাগিয়ে পাঠদান শুরু করেছি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি নিজে উপস্থিত থেকে স্থানান্তরিত বিদ্যালয়ের সবকিছু নতুন জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। এখন পাঠদান চলছে। পরবর্তী সময়ে যদি আরও কোনো সমস্যা দেখে দেয়, সেটাও সমাধান করা হবে।
২০০৪ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয় ২০১৮ সালে। স্থাপনের পর থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিদ্যালয়টির পাঠদান চললেও গত একমাস আগে নিজস্ব জমিতে বিদ্যালয়টি সরিয়ে নিয়ে পাঠদান চালানো হয়েছিল। বিদ্যালয়টিতে ৮০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও ঘরের বেড়া থাকায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল ১০-১৫ জন। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকের সংখ্যা পাঁচজন।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২২/০২/২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
