শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ বেশ উন্নত ও জনবসতি এলাকা। যোগাযোগ মাধ্যমও ভালো। এখানে রয়েছে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। কাগজ-কলমে শিক্ষার্থী থাকলেও কিন্তু বাস্তবে নেই। শ্রেণিকক্ষে শূন্য শিক্ষার্থী। তবুও ১৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলছেন। আর স্কুল মাঠ যেন গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
এমনি এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেখা মেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নে। বিদ্যালয়টির নাম- ‘বকসীগঞ্জ রানী দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।’
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির সবগুলো শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী শূন্য। বেঞ্চগুলো এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। শুধু অফিস কক্ষে কয়েকজন শিক্ষককে খোসগল্পে মেতে থাকতে দেখা যায়। এই চিত্র প্রতিকার্য দিবসের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারী শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ১৯৮৮ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হওয়ার পর এমপিওভুক্ত হয়। এরপর থেকে কোনো মতো শিক্ষাক্রম চলছিল। এরই মধ্যে প্রধান শিক্ষক বোরহান আলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকায় চলমান রয়েছে মামলা-মোকদ্দমা। যার কারণে প্রধান শিক্ষক বোরহান আলী প্রায় এক বছর ধরে বিদ্যালয়ে আসেন না। বাড়িতে বসে পিয়নের মাধ্যমে শিক্ষক হাজিরা খাতায় শতভাগ উপস্থিতি স্বাক্ষর দিয়ে চলেছেন তিনি। আর কম্পিউটার শিক্ষক থাকলেও প্রতিষ্ঠানে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। এমনকি এই বিদ্যালয়ে নেই ম্যানেজিং কমিটিও। রয়েছে নিরাপত্তা বেষ্টনীর অভাব।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে বিমুখ হয়ে পড়ছে। কাগজ-কলমে ২ শতাধিক শিক্ষার্থী দেখানো হলেও বাস্তবে ৮-১০ জনও পাঠগ্রহণ করে না। তবে শিক্ষার্থী হাজিরা খাতায় সন্তোষজনক উপস্থিতি দেখানো হয়। কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থী ছাড়াই চলছে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। এতে করে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, পদাধিকারে বিদ্যালয়ের সভাপতি ইউএনও। শিক্ষার্থী শূন্য প্রতিষ্ঠানে কীভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান করা হচ্ছে সেটি বোধগম্য নয়।
আতাউর রহমান প্রামাণিক নামের একজন অবিভাবক বলেন, স্কুলের নানা সমস্যার কারণে কেউ সন্তানকে এখানে ভর্তি করাতে চান না। কতিপয় ছাত্রী ভর্তি হলেও তারা স্কুলে আসে না। একদম শূন্য শিক্ষার্থী দিয়ে বিদ্যালয় চালানো হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের দেখা দরকার।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শরিফা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী আছে। সেই শিক্ষার্থীরা অন্য প্রতিষ্ঠানে কোচিং করে। তাই এখানে অনেকে ক্লাস করে না।
বেলাল হোসেন নামের অপর এক সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা সবাই অন্য প্রতিষ্ঠানে কোচিং করে। আর অসুস্থতার কারণে হেড স্যার স্কুলে আসেন না। তাই এ অবস্থা।’
এ বিষয়ে বকসীগঞ্জ রানী দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বোরহান আলী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলো সত্য নয়। সহকারী শিক্ষকরা স্কুলে অনিয়মিত উপস্থিত কারণেই শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে।’
সাদুল্লাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, ‘ওই প্রতিষ্ঠানের এমন অবস্থা সেটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রোকসানা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২২/০২/২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
