এইমাত্র পাওয়া

যে উদ্যোগে প্রশংসায় ভাসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ এবারের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। বিগত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ১০ গুণ বেশি। ২০২১-এ এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচটি। বিষয়টি উদ্বেগজনক। তাই শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিনব উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। প্রতিবছর যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে ব্যর্থ হতো, তাদের বিরদ্ধে কঠোর শাস্তি দেওয়ার রেওয়াজ ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। অনেকক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের নজিরও দেখা গেছে। এবারই প্রথম এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে সরে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

শিক্ষাবোর্ড থেকে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস করেছে, এমন প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতবিনিময়ের আয়োজন করা হবে। এর ফলে, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছে, তাদের থেকে পরামর্শ ও ভালো করার কারণ জানতে পারবে এসব কলেজ।

প্রতিষ্ঠানগুলো কেন ভালো করতে পারছে না, এর কারণ সম্পর্কে যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান খোলাখুলিই গণমাধ্যমকে বলেন, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অধিকাংশই নন এমপিও। এর ফলে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুব কম। দেখা গেছে, একটি কলেজ থেকে ২ জন পরীক্ষা দিয়ে দুজনই ফেল করেছে। কিন্তু এর ফলে শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তকমা লেগে গেছে। উল্লেখ করা প্রয়োজন, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিক্ষাবোর্ডগুলোর পাঠদানের স্বীকৃতি বন্ধের ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু এর সঙ্গে একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীর চাকরি তথাভবিষ্যৎ জড়িত থাকায় তাদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

একজন শিক্ষার্থী কি শুধু শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের মানের কারণে অকৃতকার্য হয়ে থাকে? যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হয় তাদের পড়াশোনার ভিত্তি, পারিবারিক অবস্থা, লেখাপড়ার মোটিভেশন- অনেকটাই জড়িত। এ কারণে ফেলের পিছনে শিক্ষককে ধরে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি কতখানি যুক্তিযুক্ত, এমন প্রশ্ন তোলা যায়। তবে শিক্ষকরা আন্তরিক হলে, পরিপূর্ণ দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর পড়ালেখার সার্বিক তত্ত্বাবধান করতে সমর্থ হলে একজনও ফেল করার কথা নয়। সেজন্যে শিক্ষককে সময় দিতে হবে। সেই সময় দেওয়া কি শিক্ষকদের পক্ষে সম্ভব? এক্ষেত্রে অভিভাবকদের দায় এড়ানোও সম্ভব নয়। বাবা কিংবা মা অথবা দুজনেই যদি তাদের পরীক্ষার্থী সন্তানের পড়ালেখার অগ্রগতি কিংবা অবনতি পর্যবেক্ষণে কিছু সময় ব্যয় করেন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন, তাহলে একজন শিক্ষার্থী অতিরিক্ত পরিশ্রমী ও শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হবে, সেটি মোটামুটি নিশ্চিত। পরীক্ষার ফলে তার প্রতিফলন ঘটতে বাধ্য। পরীক্ষায় অকৃতকার্যতার কারণ অনুসন্ধানে আপাতত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেটুকু পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেটিকে সাধুবাদ জানাতে হবে।

আগামী দিনগুলোতে তার সাফল্য বা ব্যর্থতার বিষয়টিই বলে দেবে নতুন কী কী পদক্ষেপ নেওয়া সমীচীন ও আবশ্যক হবে। আমাদের প্রত্যাশা, একজন পরীক্ষার্থীও যেন পরীক্ষায় অকৃতকার্য না হয়। সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২০/০২/২৩   


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.