শিক্ষাবার্তা ডেস্ক।।
তৎকালীন পূর্ব বাংলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ। বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশে অগ্রণী ভূমিকায় ছিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্ররা।
প্রখ্যাত লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল বইটিতে উঠে এসেছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও জাতীয় জীবনে হলটির সুদূরপ্রসারী প্রভাব। বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে এ হলের ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে এসএম হলের ১৮ জন শিক্ষার্থী ও কর্মী শহীদ হন। ভাষা আন্দোলনে হলের ছাত্রদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।
সে সময়ে বাঙালি মুসলমান সমাজের সাহিত্যচর্চার কেন্দ্রবিন্দু ছিল হলটি। একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে সাহিত্যচর্চা, নাট্যচর্চা, সংগীতচর্চা, খেলাধুলা, বিতর্কচর্চা সবই হতো এসএম হলে। এ আবাসিক হল থেকেই শুরু হয়েছিল আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দীক্ষা।
প্রতিষ্ঠার পর প্রথম ২৫ বছর হলের কার্যক্রম ছিল বহুমুখী। জ্ঞানচর্চা থেকে সমাজসেবা, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতিচর্চা, বাংলা-ইংরেজি বিতর্ক ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতা থেকে সাহিত্যচর্চা—সবই হতো এসএম হলে। উপমহাদেশের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন নজির নেই। প্রথম ৫০ বছর হলটি জাতি গঠন ও সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডই ছিল হলের শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের রুটিন। দেশভাগের পর পূর্ব বাংলায় ছাত্ররাজনীতির সূচনা হয়েছিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ও ফজলুল হক মুসলিম হলে। সলিমুল্লাহ মুসলিম হল থেকেই পরিচালিত হতো অনেক আন্দোলন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ হলের অনাবাসিক ছাত্র ছিলেন।
অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ৯৫, ৯৭, ১০৮ ও ১১২ পৃষ্ঠায় তিনি এ হলের স্মৃতিচারণা করেছেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর বিরোধী রাজনীতির সূতিকাগার ছিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হল। দেশ ভাগের পর ঢাকায় এসে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এসএম হলের ছাত্রদের নিয়েই হল চত্বরে সভা করেন। প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ১৯৪৮ সালে মুসলিম হল ইউনিয়নের ভিপি (সহসভাপতি) ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের ঢাকা সফরকালে এ হলের ছাত্র সংসদের উদ্যোগেই বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল তৎকালীন হলের বিরাট ডাইনিং টেবিলে।
এ টেবিলে বসেছেন কাজী নজরুল ইসলাম, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, লর্ড লিটন, স্যার আবদুর রহিম, ফজলুল হক, সুভাষ চন্দ্র বসুসহ উপমহাদেশের বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। ষাটের দশকের গণসংগীত অনুষ্ঠান, গণজাগরণের গানের সাক্ষ্য বহন করে চলছে হলের ছাত্র মিলনায়তন। হল ইউনিয়নের আজীবন সদস্যপদ যাদের দেয়া হয় তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি কায়কোবাদ, স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ, বাংলার গভর্নর লর্ড লিটন।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২০/০২/২৩
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
