নিউজ ডেস্ক।।
করোনা ভাইরাস মহামারীতে দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় গড়ে ২৭ শতাংশ শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। ‘গণিত’ ও ‘ইংরেজি’ বিষয়ে তাদের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। মোট পাঁচ বিষয়ে গড়ে তাদের শিখন ঘাটতি চিহ্নিত হয়েছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।
সম্প্রতি এক জরিপে এসব ঘাটতি শনাক্ত করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রাথমিক শিক্ষা অনুবিভাগ। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিখন ঘাটতি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে তা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতির জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। আর তৈরি হবে একটি দক্ষতাহীন প্রজন্ম। প্রাথমিক স্তরের নীতিনির্ধারক, স্কুল প্রশাসক এবং শিক্ষকদের যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের তাগাদা দিয়েছেন তারা।
এনসিটিবির জরিপে দেখা গেছে, মহামারীতে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। জরিপে চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি বিষয় বাদে সব শ্রেণির বিভিন্ন বিষয়ে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা শিখন ফলে এগিয়ে আছে।
ভৌগোলিক অবস্থান থেকে শিখন ফলে তুলনামূলক এগিয়ে আছে বরিশাল বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে আছে সিলেটের শিক্ষার্থীরা। পাহাড়, হাওর ও চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটিতি ছিল বেশি।
করোনাকালে দূরশিখন ক্ষেত্রে ডিভাইস সুবিধা না থাকার কারণে শিখন ঘাটতি বেশি চিহ্নিত হয়েছে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৩৮.১ শতাংশ পরিবারে স্মার্টফোন (ইন্টারনেট সংযোগসহ) ছিল, কম্পিউটার/ল্যাপটপ ছিল ৪.৭ শতাংশ এবং রেডিও ছিল ৬.৭ শতাংশ পরিবারে। জরিপে যাদের দূরশিখনের জন্য ডিভাইস ছিল, তাদের শিখন ফল ভালো হয়েছে। ডিভাইস না থাকায় শিক্ষার বৈষম্য আরও বেড়েছে।
আবার অনেকে ডিভাইস থাকলেও অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেনি। জরিপে উঠে এসেছে ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির ছাত্রদের মধ্যে টিভি ক্লাসে ৭০.২ শতাংশ, স্মার্টফোন ক্লাসে ৭৬.৫ শতাংশ এবং রেডিও ক্লাসে ৮৪.২ শতাংশ অংশগ্রহণ করেনি। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীরা বেশি সক্রিয় ছিল, এ কারণে তাদের শিখন ফলও ভালো এসেছে।
এ প্রসঙ্গে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ জানান, করোনার দুই থেকে আড়াই বছরে আমাদের শিখন গ্যাপ হয়েছে। এ জন্য পিইডিপি-৪ (চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি)-এর একটি কম্পোন্যান্টের আওতায় এনসিটিবি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি গবেষণা করেছে। তিনি বলেন, নানা পর্যায়ে শিখন ঘাটতি ভিন্ন রকম হয়েছে। কোনো বিষয়ে বেশি, কোনো বিষয়ে কম, গ্রামে এক রকম, শহরে আরেক রকম। এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি হয়নি। প্রতিবেদন পেলে সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিখন ঘাটতি পূরণের জন্য শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন। স্কুলে শ্রেণির পাঠদান, পাঠ্যক্রম একীভূত করা, পাঠদানের সময় বাড়ানো, শিক্ষাদানে সহায়তা, শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের জড়িত করা এবং ক্রমাগত মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করেছেন তারা। শেখার ক্ষতি এবং শিখন ঘাটতি পূরণের জন্য বিভিন্ন কৌশলসংবলিত একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, স্কুল পরিচালনা কমিটি এবং এনসিটিবিকে যৌথ উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। এ জন্য ‘শিক্ষক গাইড’ তৈরির পাশাপাশি প্রশিক্ষণ আয়োজনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
